‘আসল শিল্পী শো পাচ্ছে না, খাচ্ছে অন্যরা’

সিলেট মিরর ডেস্ক


জুলাই ২০, ২০২০
১২:১৭ পূর্বাহ্ন


আপডেট : জুলাই ২০, ২০২০
০১:৪৬ পূর্বাহ্ন



‘আসল শিল্পী শো পাচ্ছে না, খাচ্ছে অন্যরা’

অনুমতি ছাড়া কেউ গাইতে পারবেন না দেশের ২৫ টি ব্যান্ডের কোনো গান। অন্য কোনও শিল্পী বা ব্যান্ড বাণিজ্যিকভাবে কাভার করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যান্ডের অনুমতি লাগবে। শুধু তাই নয়, সম্প্রচার মাধ্যমগুলোকেও নিতে হবে লিখিত অনুমতি।

বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) এমন স্বিদ্ধান্তের পর তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় চলছে আলোচনা সমালোচনা। এই বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি হামিন আহমেদ বলেছেন, শিল্পীদের মেধাস্বত্বের প্রতি অন্য শিল্পীদের শ্রদ্ধাবোধ তৈরির লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুমতি মানেই দরখাস্ত কিংবা টাকার বিনিময় নয়।

দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি শিল্পীদের মেধাস্বত্ব নিয়ে লুটতরাজ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন। ‘আসল শিল্পী শো পাচ্ছে না, খাচ্ছে অন্যরা’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

নতুন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে হামিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের টোটাল মিউজিকের স্বার্থ নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামবা। এখানে ব্যান্ডের স্বার্থ প্রটেক্ট করা মানে, দেশের নিয়মহীন সংগীতাঙ্গনে একটা শৃঙ্খলা ফিরে আসা। গত ১০ বছর ধরে বামবা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে কপিরাইট ও রয়্যালটি সিস্টেম নিয়ে। ব্যান্ড নয়, সংগীত নির্মাতাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য টানা দশটা বছর আমি গবেষণা করছি আর দৌড়াচ্ছি- ফর আওয়ার বেটার ফিউচার। ফলে বামবা‘র এই ঘোষণাটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবলে ভুল করবেন যে কেউ। মনে রাখতে হবে, কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব প্রটেক্ট-এর অন্যতম বিষয় হচ্ছে একে অপরের প্রতি রেসপেক্ট করতে শেখা। আপনি আমার গান গাইবেন, খুব ভালো কথা। তো সেটা আমাকে জানাতে আপনার এত দ্বিধা কেন? আমরা তো বেঁচে আছি এখনও। অনুমতি চাইলে টাকা চাইবো, সেটা তো নয়। সত্যি বলতে, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে তো মিনিমাম এই ভদ্রতা বা রেসপেক্টটাও গড়ে ওঠেনি।

এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সামান্য। আমাদের কথা আপনি মাইলসের 'নীলা' গানটা গাইবেন। খুবই ভালো কথা। তো সেটা আমাদের যে কাউকে একটা ফোন করে বা ফেসবুক পেজে নক করে বলে দেন না। কেউ এভাবে বললে তো, নিজেদের কাছেও খুশি লাগে। এমনও তো হতে পারে, ‘নীলা’কে চাইতে এলে বলে দিতে পারি মাইলস-এর সব গান গাও তুমি! আমরা তো অন্যের গাওয়া থেকে টাকা কামাই করার গল্পটা করছি না। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, মিনিমাম ভদ্রতা শিখুক, ক্রিয়েটরকে মিনিমাম সম্মান দেখাক। বামবার অন্য সদস্যদেরও বলেছি, কেউ গাইতে চাইলে হাসিমুখে গাইতে দেবেন। আমরা আর কয়দিন। আমাদের গান ওরাই গাইবে। কিন্তু সেটার জন্যে তো মিনিমাম একটা ভদ্রতা শেখা দরকার। সেটাই তো হচ্ছে না।

হরিলুটের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের টিভি, রেডিও, অনলাইন-সর্বত্র হরিলুট চলছে বাংলা গান নিয়ে। ব্যান্ডের আর কয়টি গান? আলাউদ্দিন আলীদের মতো লিজেন্ড মিউজিক ডিরেক্টররা বেঁচে থাকতে যেভাবে হরিলুট হচ্ছে তাদের গান... বলার ভাষা নেই।
কপিরাইট সোসাইটি বা এমন কোনও অর্গানাইজেশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছি কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে সিএমও (কালেকটিভ ম্যানেজমেন্ট অরগানাইজেশন) অ্যাকটিভ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে। ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন পেয়ে গেছে। মূলত এই প্ল্যাটফর্মটাই হবে মেধাস্বত্বের সব হিসাব রাখার প্রধান কেন্দ্র। যেখানে দেশের প্রতিটা শিল্পীর (গীতিকার, সুরকার, শিল্পী) সব অধিকার রক্ষা করা হবে। এমনকি বিদেশি শিল্পীদের গান কাভার করলে তার হিসাবটাও হবে। তো সেই সিস্টেমে ঢোকার আগে তো মিনিমাম ভদ্রতা আমাদের শিখতে হবে। সেটা হলো, কারো গান গাইতে গেলে তার অনুমতি নেওয়া। অনুমতি মানে দরখাস্ত জমা দেওয়া নয় কিংবা টাকার হিসাব নয়, এটা মাথায় রাখতে হবে।

এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আজকে চ্যানেল আই যদি শিশুদের জন্য একটা অনুষ্ঠান করে, সেখানে মাইলস এর একটা গান করতে চায়- আমরা কী তাতে বাধা দিব? কিন্তু একই গান যদি জি-বাংলার রিয়েলিটি শোতে কেউ করতে চায়, তখন তো আমরা আলাদা হিসাব করব। ফলে এসব নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

আরসি-০১