আগুন কেড়ে নিয়েছে তার সবকিছু

সাইফুল্লাহ হাসান, মৌলভীবাজার


মার্চ ০২, ২০২১
০৫:২৬ অপরাহ্ন


আপডেট : মার্চ ০২, ২০২১
০৯:৫৩ অপরাহ্ন



আগুন কেড়ে নিয়েছে তার সবকিছু

সুফিয়া বেগম

বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে মাথা গোঁজার ঠাঁইসহ পুড়ে গেছে সুফিয়ার ছোট্ট সংসার। মুহূর্তের আগুনে এলোমেলো হয়ে গেছে স্বামীহীন ৬৫ বছরের এই বৃদ্ধার জীবন। পেটের ক্ষুধা নিবারণ করতে তিনি এখন হাত পাতছেন মানুষের কাছে।

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের পশ্চিম খলাগ্রামে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে গত ১৫ দিন যাবত বিভিন্নজনের বাড়িতে রাতযাপন করছেন সুফিয়া। বার্ধক্যজনিত নানা রোগের কারণে কাজ করতে না পারায় জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে মানুষের কাছে হাত পাতছেন তিনি। আর তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে ট্রাকের হেলপারের কাজ করছে।

জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে একই উপজেলার মেদিনিমহল এলাকার হামদু মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সুফিয়ার। এর আগে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন সুফিয়ার স্বামী হামদু। প্রায় ৩ বছর আগে হামদু মিয়া সুফিয়াকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে তিনি কোনো খবর রাখেন না সুফিয়ার। বাড়ির পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দোকান ও বাজারে পানি বহনের কাজ করে কোনোরকমে চলছিল সুফিয়ার সংসার। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের পর সুফিয়া এখন নিঃস্ব।

স্থানীয়রা জানান, সুফিয়ার কোনো জায়গা-সম্পত্তি না থাকায় আব্দুল বাছিতের বাড়িতে ভাড়া ছাড়াই থাকতেন সুফিয়া। এটি পুড়ে যাওয়ায় এখন আর তার মাথা গোঁজার জায়গা নেই।

সুফিয়া বেগম জানান, বিদ্যুতের আগুনে তার সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরনের কাপড় ব্যতীত আর কিছু নেই তার।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী কামরান আহমদ বলেন, 'আগুনে বাড়ি পুড়ে যাওয়ার পর ওই বৃদ্ধা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর ভিক্ষা করছেন। অনেকেই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু এখনও কেউ কোনো সহায়তা করেননি। খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন সুফিয়া।'

এ বিষয়ে মুন্সিবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালেক মিয়া বলেন, 'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় বৃদ্ধা সুফিয়ার জন্য একটি বাড়ির ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াঙ্কা পাল বলেন, 'দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পরবর্তীতে জায়গা পাওয়া গেলে একটি বাড়ির ব্যবস্থা করা হবে।'

 

এসএইচ/আরআর-০১