সিলেটে করোনা রোগীদের জন্য বাড়ল আইসিইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক


এপ্রিল ২১, ২০২১
১০:৩৩ অপরাহ্ন


আপডেট : এপ্রিল ২১, ২০২১
১০:৫৪ অপরাহ্ন



সিলেটে করোনা রোগীদের জন্য বাড়ল আইসিইউ

সিলেটে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য সরকারি আইসিইউর সংখ্যা বেড়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য ৮টি আইসিইউ শয্যা তৈরি করা হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে সরকারিভাবে সিলেটে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য ২২টি আইসিইউ সুবিধা রয়েছে। 

ওসমানী হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ৮টি আইসিইউসহ ২০০ শয্যার করোনা ইউনিট তৈরির প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের জন্য থাকা ১৮টি আইসিইউ শয্যা থেকে ৮টি আইসিইউ শয্যা করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত এসব আইসিইউতে ৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ জন হাসপাতালটিতে ভর্তি আছেন। সাধারণত অপারেশনের রোগী বা হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে যাদের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে তাদের ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালটির উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় সিলেট মিররকে বলেন, ‘ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগে থেকেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। আমাদের ২০০ শয্যার প্রস্তুতি রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি শয্যায় আইসিইউ সুবিধা রয়েছে। হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ে করোনা ইউনিট করার ইচ্ছা আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালটিতে অনেক প্রসূতির অপারেশন হয়, অনেকেই হাত ভেঙ্গে পা ভেঙ্গে বা বিভিন্ন জটিল রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এদের মধ্যে অনেকের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তাদেরকে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয় না। সেসব রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ 

করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের হাসপাতালে রাখা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের জন্য হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী করোনা উপসর্গ নিয়ে এই ওয়ার্ডে এসে ভর্তি হচ্ছেন। পরে কোভিড পরীক্ষা করে তাদের কারোর পজিটিভ এলে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে বেড খালি থাকা সাপেক্ষে সেখানে পাঠানো হচ্ছে। শামসুদ্দিনে বেড খালি না থাকলে চিকিৎসা ওসমানী হাসপাতালেই দেওয়া হচ্ছে।’ 

রোগীর চাপ এখন পর্যন্ত খুব বাড়েনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে এখনও করোনার রোগীদের চাপ সেভাবে সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। বিষয়গুলো স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে শক্তভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’ 

জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য সিলেট করোনা আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এরমধ্যে দুটি শয্যা ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া নগরের ৩টি বেসরকারি হাসপাতালেও করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। সেসব হাসপাতালেও আইসিইউ সুবিধা রয়েছে। তবে ব্যয় চিন্তা করেসাধারণ রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে সরকারি হাসপাতালেই ভরসা রাখছেন। 

তবে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউ গত প্রায় একমাস ধরে সব সময় পূর্ণ থাকছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কখনও একটি শয্যা খালি হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাতে রোগী ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) চয়ন রায় সিলেট মিররকে বলেন, ‘হাসপাতালে আইসিইউ খালি পাওয়া খুব কঠিন। আজ সন্ধ্যার দিকে একটি বেড খালি হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউতে ১৩ জন রোগী ভর্তি আছেন।’ 

এনএইচ/বিএ-১৫