বিমান প্রতিমন্ত্রীর গ্রামে দুই কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে মাত্র ৪৭ ভোট

সিলেট মিরর ডেস্ক


জানুয়ারি ০৮, ২০২২
০৫:২০ অপরাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ০৮, ২০২২
০৫:২০ অপরাহ্ন



বিমান প্রতিমন্ত্রীর গ্রামে দুই কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে মাত্র ৪৭ ভোট

পঞ্চম দফা ইউপি নির্বাচনে হবিগঞ্জের চা বাগান অধ্যুষিত ও বেসরকারী বিমানচলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর নির্বাচনী এলাকা চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায় নৌকার ভরাডুবির ঘটনা ঘটেছে।  মন্ত্রীর বাড়ির দুই কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে মাত্র ৪৭টি ভোট। চা বাগান অধ্যুষিত এলাকায়ও হেরেছে নৌকা। এমনকি জামায়াত থেকেও এবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে সেখানে।

বেসরকারি বিমানচলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর গ্রামের বাড়ী মাধবপুর উপজেলার বানেশ্বর গ্রামে। বুল্লা ইউনিয়নের ওই গ্রামে কেন্দ্র রয়েছে দুটি। বানেশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের শামীম রহমান পান ২৫ ভোট।

বিজয়ী আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী মিজানুর রহমান পান ৯১৭ ভোট। বানেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে শামীম রহমান পান ২২ ভোট এবং মিজানুর রহমান পান ১হাজার ১৩ ভোট। ওই ইউনিয়নে শামীম রহমান ১হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে ৪ প্রার্থীর মাঝে চতুর্থ হন। বিজয়ী মিজানুর রহমান পান ৩হাজার ৭২৫ ভোট। বিজয়ী মিজানুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর আপন চাচাত ভাই এবং বুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং মাধবপুর উপজেলার রাজনীতিবিদ দেওয়ান মারুফ সিদ্দিকী বলেন, মন্ত্রীর কাছে দলের ছেয়ে আত্মীয় বড়। তাই তার নিজ ইউনিয়নে নৌকার চরম ভরাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার এমপি হিসাবে মন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল বিদ্রোহীদেরকে নিয়ে বসা এবং তাদেরকে নির্বাচন থেকে সরানোর ব্যবস্থা করা। কিন্তু তিনি তার কিছুই করেননি। ফলে চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায় নৌকার চরম ভরাডুবির ঘটনা ঘটেছে।

চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ৬টিতে বিজয়ী হয়েছে নৌকা। এর মাঝে চুনারুঘাট উপজেলার ১০টির মাঝে ৪টিতে এবং মাধবপুর উপজেলার ১১টির মাঝে মাত্র ২টিতে নৌকা বিজয়ী হয়েছে। চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী ইউনিয়নে মানিক সরকার, রাণীগাঁও ইউনিয়নে মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, পাইকপাড়া ইউনিয়নে ওয়াহেদ আলী মাস্টার ও সাটিয়াজুরী ইউনিয়নে আব্দালুর রহমান বিজয়ী হন। মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নে আতিকুর রহমান আতিক ও বহরা ইউনিয়নে  আলাউদ্দিন বিজয়ী হন।

চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত তোফাজ্জল হোসেন মহালদার বলেন,  এই বিপর্যয়ের কারণ হল যোগ্য প্রার্থীদেরকে মনোনয়ন না দেয়া। আমরা দলের নীতি ও আদর্শকে সম্মান জানিয়ে বিদ্রোহী হইনি। কিন্তু বিভিন্ন ইউনিয়নে অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। 

মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও আন্দিউড়া ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক বলেন, নৌকার নেতাকর্মীরাই নৌকার শত্রু। নৌকাকে ডুবাতে এই নেতারাই কাজ করেছেন। আমাকেও পরাজিত করার জন্য দলের নেতারা চেষ্টা করেছেন।

এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্মসাধারন সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম বলেন, মন্ত্রী আন্তরিক থাকলে নৌকার এই বিপর্যয় হত না। আমার জানামতে তিনি নির্বাচনে ২০দিন পূর্ব থেকে এখন পর্যন্ত নৌকার প্রার্থীদের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করেননি। নৌকার এই বিপর্যয় নিয়ে তার কোন ফিলিংসই কাজ করছে না।

এ ব্যাপারে বসরকারী বিমানচলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

আরসি-০৬