হাওরের চার বাঁধে ধস, দুশ্চিন্তায় কৃষক

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি


এপ্রিল ০৬, ২০২২
০৫:০৯ অপরাহ্ন


আপডেট : এপ্রিল ০৬, ২০২২
০৫:০৯ অপরাহ্ন



হাওরের চার বাঁধে ধস, দুশ্চিন্তায় কৃষক
মাঠে নেই পাউবো কর্মকর্তা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চারটি ফসল রক্ষা বাঁধ ধসে গেছে। ধসে যাওয়া বাঁধ রক্ষায় গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। গত সোমবার রাতে এসব ঘটনা ঘটে।

মধ্যরাত পর্যন্ত এলাকার মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয় স্থানীয়দের। মাঠভরা ফসল হারানো দুঃশ্চিন্তায় কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলোতে কাজ করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন মাঠে থাকলেও এ দুই দিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্তাব্যক্তিকে দেখা যায়নি ভাঙন এলাকায়।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের গোড়ারগাঁও ও বেটুখালে নামক এলাকায় বাঁধে ধস নামে। পরে মসজিদের মাইকে বেড়িবাঁধ রক্ষার ঘোষণা দেওয়া হলে গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ শুরু করেন।

স্থানীয় কৃষক, এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড স‚ত্র জানায়, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের গোড়ারগাঁও গ্রামের হাওরের ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নলুয়া হাওর ফসলরক্ষায় ২০ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। যার মাধ্যমে সাতটি স্পটে খালেরমুখ বন্ধ করা হয়।

গত সোমবার রাত সাড়ে আটটায় গোড়ারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের খালের মুখের বেড়িবাঁধ ধসে যায়। গোড়ারগাঁও গ্রামের কৃষকদের নজরে এলে তারা গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে বেড়িবাঁধ রক্ষার আহবান জানালে গোড়ারগাঁও, মজিদপুর, নাদামপুর, ইজলা গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বেড়িবাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেন।

এদিকে ওই রাতে একই ইউনিয়নের নলুয়া হাওরের আওতাধীন পোন্ডার-১ এর ১ নম্বর প্রকল্পের বেটুখালি, ৫ নম্বর প্রকল্পের হালেয়া ও ১৭ নম্বর প্রকল্পের মইয়ার হাওরের কলাইকাঁটা বাঁধ ধেবে গেলেও স্থানীয়রা বাঁধরক্ষায় কাজ চালান।

গত মঙ্গলবার বিকেলে নলুয়া হাওরের ৫ নম্বর প্রকল্প পরির্দশনকালে দেখা যায়, বাঁধ ও মাটির বস্তা দিয়ে পিআইসির লোকজনের পাশাপাশি স্থানীয়রা কাজ সহযোগিতা করছেন। এ বাঁধটি বর্তমানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। সঠিকভাবে কাজ না হলেও পানির চাপে যেকোনো সময় ফসলহানির শঙ্কায় আছেন বলে কৃষকরা জানান। তবে ওই প্রকল্পের কাজের মান নিন্মমানের বলে অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ এলাকায় পরিদর্শন করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, ইউএনও সাজেদুল ইসলাম, পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল, সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ। হাওর পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে দেখা যায়নি হাওরে।

স্থানীয় কৃষক ভুরাখালি গ্রামের লিটন মিয়া জানান, এবার নিন্মমানের কাজ হওয়ায় সামান্য পানির চাপে বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। খুবই দুশ্চিতায় আছি আমরা ফসল নিয়ে। এই হাওরের তিনি ৩০ কেদার জমি বোরো জমি আবাদ করেছেন। এখনও ধান পাকেনি। এজন্য শঙ্কায় ভুগছেন এই কৃষক।

চিলাউড়া গ্রামের আরেক কৃষক তোফায়েল আহমদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে আশানুরূপ কাজ না হওয়ায় বিপদের শঙ্কা রয়েছে। গত রাত থেকে পাউবোর কোনো কর্মকর্তাকে আমরা হাওরে দেখিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনও, সাব এসেছেন। আমরা কৃষকদের পক্ষ তাদের কাছে দাবী করেছে, ক্ষতিগস্ত বাঁধে ৫০ থেকে ১ লাখ টাকার কাজ করা হলে হাওরের কয়েক শ’ কোটি টাকার ফসল রক্ষা পাবে। সময় নেই দ্রুত কাজ করতে হবে।

৫ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি ছাত্রলীগ নেতা জমিরুল ইসলাম বলেন, আমার প্রকল্পে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও টাকা পেয়েছি মাত্র ৭ লাখ। ধার এনে কাজ করছি। চাহিদা অনুযায়ী অর্থ দেওয়া হয়নি। এমতাবস্থায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, বাঁধের কাজের মান ভালো না থাকায় বেশ কয়েকটি বাঁধ ঝুঁকিতে আছে।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহŸায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, নলুয়া হাওরের ১, ৫, ৬, ৭, ১, ১৭, ২০ সহ কমপক্ষে ১০টি বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে আছে। পাউবোর অনিয়ম ও দায়সারা কাজের কারণে বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখে। দ্রুত হাওর রক্ষা বাঁধ সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, ৫টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের কাজ করার জন্য মাটির মেশিন সংগ্রহ করতে চিলাউড়া পন্ডিতায় আছি। এখন নলুয়ার হাওরে যাব।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম বলেন, রাত থেকেই হাওরে আছি। হাওররক্ষায় আমরা কাজ করছি।

আরএম-১৩