ত্রাণের অভাবে বিপাকে জামালগঞ্জের শ্রমজীবী মানুষ

বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ


এপ্রিল ০৫, ২০২০
০২:৫৬ অপরাহ্ন


আপডেট : এপ্রিল ০৫, ২০২০
০২:৫৬ অপরাহ্ন



ত্রাণের অভাবে বিপাকে জামালগঞ্জের শ্রমজীবী মানুষ

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কায় অঘোষিত লকডাউনে আছে পুরো দেশ। সেই সুবাদে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের হাট-বাজারসহ শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের জীবনও চলে গেছে হোম কোয়ারেন্টিনে। এ অবস্থার আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) ১১তম দিন অতিবাহিত হলেও উপজেলার কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষগুলো এখন পর্যন্ত পাচ্ছে না কোনো সরকারি ত্রাণ সহায়তা। সম্প্রতি সরকারের তরফ থেকে ইউনিয়নভিত্তিক এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে তাও প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প। এ নিয়ে বেকার দরিদ্র অভাবী জনগোষ্ঠীর মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, কোনো মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকে। কিন্তু এ উপজেলায় এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা বলছেন, এভাবে বেকার অবস্থায় বাড়িতে বসে না খেয়ে মরার চেয়ে করোনাভাইরাসে মরাই ভালো। এছাড়া সরকারের একাউন্টে ধনাঢ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কোটি কোটি টাকা যুক্ত হলেও গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনও কোনো সহায়তা পাচ্ছে না।

এ নিয়ে বেহেলী ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামের বালি দিনমজুর পংকজ রায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘কাম কাজ বন্ধ থাখনে বৌ, ফুয়া, ফুরি লইয়া না খাইয়া এমনিতেই মইরা যাইমু। এর চেয়ে করোনায় মইরা যাওয়াডাই ভালা। সরকারে চাউল-ডাইল দিব, এইডা খালি হুইনাই যাইতাছি। আর কোনদিন দিব? মরার পরে দিলে লাভডা কিতা হইব?’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রতি ইউনিয়নে ১শ জন গরিব দুস্থদের মাঝে সামান্য ত্রাণ বন্টন করা হয়েছে। এটি প্রয়োজনের তুলনায় শুধু যৎসামান্যই না, শতকরায় একজন পেয়েছে কি না সন্দেহ। তাও আবার মেম্বার-চেয়ারম্যানদের ঘনিষ্টজনরাই এতে ভাগ বসিয়েছে বলে কথা উঠেছে। এছাড়া এ উপজেলায় ব্যক্তি উদ্যোগেও কিছু ত্রাণ সহায়তা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন সচিবদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে আমাদেরকে তালিকা প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা তালিকা প্রস্তুত করে জমা দিয়েছি। এখন কবে কতজনকে এ ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে সেটা বলা যাচ্ছে না।

তারা আরও জানিয়েছেন, প্রতি ইউনিয়নে পৃথকভাবে প্রায় দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজারেরও উপরে শ্রমজীবী বেকার মানুষের নাম তালিকাভুক্ত করে তারা জমা দিয়েছেন। এদের মধ্য থেকে ঠিক কতজনকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে তা জানা যায়নি।

করোনাভাইরাসে গৃহবন্দি জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের উত্তর কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা ও কমরেড বরুণ রায় স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘যারা দিন আনে দিন খায় তাদের অবস্থা খুব করুণ। এদের মধ্যে চরম হতাশা ও অস্বস্তি কাজ করছে। সব বন্ধ থাকায় তারা কেউ কাজে যেতে পারছে না। ফলে অনেকটা অসহায় অবস্থায় দিন পার করছে তারা। তাই দ্রুত ত্রাণ তৎপরতা চালানো প্রয়োজন।’

সাচনা বাজার ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের হোমিও চিকিৎসক ডা. বিষ্ণুপদ সূত্রধর বলেন, ‘দেশ একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তার চেয়েও বড় ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। যারা এখন গৃহবন্দি, কাজে যেতে পারছে না, তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোর বিপদের মধ্যে আছে। শুনেছি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সরকারি তহবিলে প্রচুর অর্থ জমা হচ্ছে। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না। এতে করে হতদরিদ্র মানুষ পেট বাঁচাতে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করবে। এ ব্যাপারে সরকারের দ্রুত মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া সাধারণ মানুষের মাঝে যে ত্রাণ বন্টন করা হবে সেগুলো যেন কোনো অনিয়ম ছাড়া সুষ্ঠুভাবে বন্টন করা হয়, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার।’

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল বলেন, ‘প্রতি ইউনিয়ন থেকে যে তালিকা এসেছে আমরা এর মধ্য থেকে ২ হাজার ৭শ মানুষের নাম বাছাই করেছি। বাছাইকৃতদের এ সপ্তাহে ১০ কেজি চাল ও ২ কেজি করে আলু দেওয়া হবে। এর আগে ৬শ ৪০ জনকে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পরে বাকিদের ধারাবাহিকভাবে এ সহায়তা প্রদান করা হবে।’