আশরাফ আহমেদ
এপ্রিল ১৬, ২০২০
০৬:০৫ অপরাহ্ন
আপডেট : এপ্রিল ১৬, ২০২০
০৬:০৫ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম কৃষিকাজ। ধান-গমের পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের দেশীয় সবজি, শস্য ও মাছ চাষের দ্বারা বছরের অধিকাংশ সময়ের চাহিদা পূরণ করেন এখানকার মানুষ।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশে চলমান অচলাবস্থার দরুন এখানকার মানুষের প্রধান ফসলগুলো এখন একরকম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এলাকায় উৎপাদিত দেশীয় সবজিগুলো বাজারে নিয়ে আসতে পারছেন না কৃষক। ফলে কৃষকের যত্নের অনেক সবজি ক্ষেতের মধ্যেই পচে যাচ্ছে।
উপজেলার কালিনগর গ্রামের সাহেল মিয়া বলেন, মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে তিন বিঘা জমিতে মৌসুমে সবজি চাষ করেছিলাম। এবছর ফলনও খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু দেশের এই অবস্থার কারণে যানবাহন, পাইকার কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চোখের সামনেই ফসলগুলোর ধ্বংস হওয়া দেখতে হচ্ছে।
ধ্বংসের পথে মৎস্য খাতগুলোও। বিক্রি না হওয়ার কারণে পুকুর-ডোবা কিংবা বিভিন্ন নদীর মাছ ধরছেন না কেউ। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরের এই শেষ সময়ে মাছ ধরা না গেলে কিছুদিনের মধ্যে নদীতে নতুন পানি চলে আসবে। তখন ভরা নদীতে আর মাছ ধরা সম্ভব হবে না। এদিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার ফলে এলাকার বাজারগুলোতে এখন আর পাইকাররাও আসছেন না।
শহীদ মিয়া নামের একজন বলেন, পুকুরে অনেক মাছ রয়েছে। পাশের নদীতেও মৎস্য উৎপাদনের সময় এটা। তারপরও ক্রেতা আর পাইকারের অভাবে মাছগুলো তুলছি না। অযথা তুলে বিক্রি করতে পারব না, শুধু শুধু পচে নষ্ট হবে।
তাছাড়া চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা নিয়ে একধরণের ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে কৃষকদের মাঝে। যান চলাচল না থাকার দরুন দূর-দূরান্ত থেকে ধান কাটার শ্রমিকরা আসতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর শতকরা ৮০ ভাগেরও বেশি জায়গায় বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ফসল এখনই কাটার উপযুক্ত। এমন অবস্থায় শ্রমিক না পেয়ে হতাশা আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ভাটির কৃষকদের। তার ওপর শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই।
উপজেলার মাটিয়াপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম বলেন, ৫ কিয়ার (প্রায় ২ একর) জায়গায় লালডিংঙ্গা ধান আবাদ করেছি। ক্ষেতের মাঝে ধান পেকে আছে। শ্রমিকরা আসতে পারছে না। এ অবস্থায় কি করব সেই চিন্তায় মাথা কাজ করছে না।
এএ/আরআর