শামীম আহমদ, বালাগঞ্জ
এপ্রিল ১৯, ২০২০
০৬:৩৯ অপরাহ্ন
আপডেট : এপ্রিল ১৯, ২০২০
০৬:৩৯ অপরাহ্ন
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধান কাটার শ্রমিক সংকটে এ অঞ্চলের কৃষকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। উচ্চমজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কৃষক-কৃষাণীরা। এমনিতেই এ বছর বৃষ্টিপাতের অভাবে ফসল নষ্ট হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।
হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয় ১৫ এপ্রিলের পর। ১৬ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আর ঢলের কারণে হাওরে আগাম বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে পাকা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কোনো কোনো বছর মার্চেই অকালবন্যা দেখা দেয়। তবে এবার মার্চে বৃষ্টি না হলেও এপ্রিলের শেষেরদিকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। সময়মতো সোনালি ফসল ঘরে তুলতে না পারলে পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যান্য বছর বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় অধিক শ্রমিক দিয়ে তড়িঘড়ি করে ধান কাটিয়ে নিলেও এবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চলমান ‘লকডাউন’।
এর আগে ২০১৭ সালে অকাল বন্যায় ফসল হারিয়েছিলেন কৃষকরা। ঠিক সেভাবে এবারও হয়তো করোনা আর অকাল বন্যা সোনালি স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারে ভেবে আতঙ্কগ্রস্ত তারা। প্রতিবছর বোরো ধান কাটার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বালাগঞ্জ এলাকায় মৌসুমী শ্রমিকরা আসতেন। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের শঙ্কায় এবং লকডাউন থাকায় যারা অন্যান্য বছর ধান কাটতে আসতেন, তারাও আসতে পারছেন না। এতে সময়মতো অধিকাংশ কৃষক পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না এ নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন। সঠিক সময়ে বোরো ধান ঘরে তুলতে হলে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষি প্রণোদনার টাকা দিয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি এনে দ্রুত ধান কাটার ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে সরকারি এই প্রণোদনা কৃষকের কোনো উপকারে আসবে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ধান কাটার আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কৃষকরা ব্যায়ভার বহন করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
অপরদিকে বৃষ্টিপাতের অভাবে অধিকাংশ জমিতে মড়ক ধরে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সেচ সুবিধার আওতায় থাকা জমিতে মোটামুটি ফলন হয়েছে। উপজেলার কয়েকটি হাওর ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, এবার আশাতীত ফলন হয়নি। শতভাগ ধান পাকতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। ধান কাটার শ্রমিকও মিলছে না।
তারা অভিযোগ করে বলেন, সারাবছর পানির জন্য হাহাকার করেছি। গতবছর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছিল। সেগুলো যদি চালু করা হতো, তাহলে ফসলের এতো ক্ষতি হতো না।
বালাগঞ্জ ইউনিয়নের রিফাতপুর গ্রামের কৃষক বিলাল মিয়া বলেন, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় প্রায় ৫ কেদার (১৫০ শতক) জমির ফসল এমনভাবে নষ্ট হয়েছে যে নিড়ানি লাগাতে পারিনি। ফসল উৎপাদন ও শ্রমিকদের বাড়তি টাকা দেওয়ায় এবার অনেক টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
বোয়ালজুড় ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মুনায়েম জায়গীরদার বলেন, বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় ১০-১২টি গ্রামের কৃষক পরিবারের ভাতের যোগান দেয় রউয়া হাওর। এই হাওরের পেকুয়া খালে বাঁধ না দেওয়ায় অধিকাংশ জমি অনাবাদি থেকে যায়। আর যেটুকু জমি চাষাবাদ করা হয়েছিল, সেচের অভাবে এবং বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলের মারত্মক বিপর্যয় হয়েছে।
পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের সারসপুর গ্রামের কৃষক সদরুল হাসান নবীন বলেন, আমাদের এলাকার হাওরগুলো অনেক দূরবর্তী। তুলনামূলকভাবে বড় এসব হাওর আগাম বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই শ্রমিক সংকটের বিকল্প হিসেবে সরকারিভাবে উন্নত প্রযুক্তির আধুনিক যন্ত্র আনা হলে কৃষককূল উপকৃত হবেন।
বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরে এবার সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। কৃষকদের সুবিধার্থে একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার (ধান কাটার মেশিন) আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এসএ/আরআর