বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
মে ১৮, ২০২০
১০:০৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট : মে ১৮, ২০২০
১০:১১ পূর্বাহ্ন
জামালগঞ্জের সাচনা বাজারে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই বেচা-কেনা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা
জামালগঞ্জের সাচনা বাজারে জোর কেনাবেচায় অর্থনীতিতে চাঙ্গা ভাব ফুটে উঠলেও ভেঙ্গে পড়েছে সঙ্গ নিরোধ অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব। এর মাঝে উপজেলায় ঢাকাফেরত ৯ বছরের শিশুর শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে দিন দিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। তারপরও কোথাও মানা হচ্ছে না নিয়মনীতি। মরণঘাতী করোনার ভয়াবহ পরিণতি জেনেও বাজারে জমে উঠেছে কেনা-বেচা। ঈদ কেনাকাটা সারতে স্থানীয়দের পাশাপাশি অন্য উপজেলার মানুষও এখানে ভিড় করছে।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখেই আবালবৃদ্ধভনিতার এই সমাগম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী-ক্রেতা উভয় পক্ষই। এতে করে সর্বত্র করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল রবিবার সাচনা বাজার পরিদর্শন করে এমন হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি চোখে পড়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বস্ত্র বিপণি ছাড়াও জুতা-কসমেটিক্স সামগ্রীর দোকানগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। তাতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যাই বেশি। অনেকে ছেলেপুলেসহ পুরো পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে বেরিয়েছেন। বাজারের অলিগলিতে ক্রেতা আধিক্য দেখে বোঝার উপায় নেই যে দেশ কোনো এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে কিংবা মানুষের মধ্যে অভাবতাড়িত কোনো নেতিবাচক লক্ষণ আছে। বাজারে আসা ক্রেতাসাধারণ মহামারী করোনা ভাইরাসকেও পাত্তা দিচ্ছেন বলে মনে হয় না। বরং ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে ক্রয়-বিক্রয়ের উচ্ছ্বসিত প্রতিযোগিতা চোখে পড়েছে। এছাড়া সাচনা বাজারে কেনাকাটা করতে অন্য উপজেলার মানুষও ছুটে আসছেন বলে ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকে।
বাজারে মানুষের ভিড় দেখে ব্যবসায়ী অনন্ত পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জীবন আগে না জীবিকা আগে। যদি জীবনই ঝুঁকির মধ্যে থাকে তাহলে জীবিকা দিয়ে কি হবে। আর করোনার বিষে জীবন ক্ষয়ে গেলে কাপড়চোপড় দিয়েই বা কি হবে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই করোনার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এ জন্য সরকারকে পর্যাপ্ত সহায়তার পাশাপাশি লকডাউনের ব্যাপারে আরও কঠোর হতে হবে।’
মহসিন স্টোরের স্বত্বাধিকারী মহসিন কবীর বলেন, ‘এই করোনার সময়ে সামাজিক দূরত্বের কথা চিন্তা করলে বলতে হয়, সেটা আত্মঘাতী। তারপরও মানুষ বাধ্য হয়েই বাজারে আসছে, কিছু করার নেই। বেচাবিক্রিও বেশ ভালো। এই ক’টা দিনে মন্থর অর্থনীতি ভাবটা যেন সচল হয়ে উঠেছে। তবে মানুষের গতিবিধি স্থির করতে হলে সরকারি সহযোগিতার ক্ষেত্রে অস্বচ্ছল মানুষকে যেমন গুরুত্ব দিতে হবে তেমনি মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্তকেও সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে হবে।’
বাজারে আসা ভীমখালী ইউনিয়নের ফেকুল মাহমুদপুর গ্রামের যুবক মো. শাহপরাণ বলেন, ‘সামনে ঈদ। এইতার লাগিই বাজারে ঝামেডা একটু বেশি। যদিও বাজারে আওনডা ঠিক না, তারপরও মানুষ বাজারে আইতাছে। ঘরে আর মানুষ কতখানি বইয়া থাকব? বাজার-সদাই তো আর কেউ বাড়িত গিয়া দিয়া আইত না।’
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের লম্বাবাঁক গ্রামের শহীদ আলম বলেন, ‘বাজারে আওয়ন পুরোডাই ঝুঁকি। তারপরও আইতে হয়। এছাড়া পথ নাই। কারণ বাঁচতে হইলে খাইতে হইব। আর খাইতে হইলে বাজারে আওয়ন লাগবই।’
এ ব্যাপারে সাচনা বাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চিত্তরঞ্জন পাল বলেন, ‘আজ (১৭ মে) বণিক সমিতির সভা হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারি নিয়ম মোতাবেক আমরা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনাসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলে সকলকে সতর্ক করে দিয়েছি। আর যদি কেউ এ নিয়ম না মানে তাহলে ইউএনও মহোদয় যেকোনো সময় আইসা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, ‘বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাজার কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা সেটা বজায় রাখতে না পারলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আদেশ হয়েছে, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখতে পারবে। তার মানে আমরা খোলা রাখতে বলব না, তবে কেউ প্রয়োজন মনে করলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারবেন, এর বাইরে পারবেন না।’
এনপি-০৬