সুনামগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহে কৃষক তালিকায় অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক


মে ১৮, ২০২০
০৭:৫৯ অপরাহ্ন


আপডেট : মে ১৮, ২০২০
০৭:৫৯ অপরাহ্ন



সুনামগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহে কৃষক তালিকায় অনিয়ম

সুনামগঞ্জে বোরো ধান সংগ্রহের কৃষক তালিকায় বিভিন্ন স্থানে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। একই পরিবারে একাধিক ব্যক্তিসহ চেয়ারম্যানের গ্রাম ও চেয়ারম্যানের ভোটব্যাংকের গ্রামে বড় গ্রামগুলোকে বঞ্চিত করে কৃষক বাছাই করা হয়েছে। হাওর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতৃবৃন্দ লটারির নামে কৃষক বাছাই নিয়েও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দ্রুততার সঙ্গে তালিকার কাজ করায় সামান্য অসঙ্গতি হয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফার তালিকায় এটি সংশোধন করা হবে।

জানা গেছে, সরকারি ধান কেনার জন্য সুনামগঞ্জের মোহনপুর ইউনিয়নের ১২৯ জন কৃষকের তালিকা বাছাই করা হয়। যাচাইয়ের সময় বানীপুর গ্রামের একই পরিবারের তিনজনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, গ্রামের আছদ্দর আলীর ছেলে ৭১ নম্বর ক্রমিকের জাকির হোসেন, ৭২ নম্বর ক্রমিকের কামাল হোসেন এবং ৭৬ নম্বর ক্রমিকের ফখরুজ্জামান। সম্পর্কে এরা তিন সহোদর। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত সরদারপুর গ্রামের লোকসংখ্যা পাশের মোহনপুর গ্রামের এক চতুর্থাংশ হলেও এই গ্রামের ১৪ জন কৃষকের নাম তালিকায় রয়েছে। তার নিজের গ্রাম বানীপুর অপেক্ষাকৃত ছোট হলেও সবচেয়ে বেশি ১৬ জন কৃষকের নাম তালিকায় উঠেছে। কিন্তু ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় গ্রাম মোহনপুরের মাত্র ১০ জন কৃষকের নাম তালিকায় রয়েছে। বানীপুরের পাশের গ্রাম বর্মাত্তরের লোকসংখ্যা বাণীপুরের চেয়ে বেশি হলেও এই গ্রামে মাত্র ২ জন কৃষক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এভাবে তালিকায় বৈষম্য হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার কাছেও এলাকাবাসী অভিযোগ জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ যাচাই করে কিছু বৈষম্যের সত্যতাও পেয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

ইউনিয়নের নৌকাখালি গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব কৃষক তালিকায় স্বজনপ্রীতি করেছেন। তার গ্রামে সবচেয়ে বেশি মানুষ কৃষক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তিনি নিজেও বড় কৃষকের তালিকায় আছেন। জমিজমা বেশি হলেও চেয়ারম্যান সাহেব কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত নন। 

মোহনপুর ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম জাকারিয়া বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব বড় কৃষক। কাগজও দেখিয়েছেন। তাই বড় কৃষক হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। লোকবল কম থাকায় পুরো ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত কৃষক অনেক সময় যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় না। তাই ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে কথা বলেই আমরা তালিকা তৈরি করেছি।

হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিসদের সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, কৃষক নির্বাচন নিয়েও কোথাও কোথাও প্রশ্ন ও অভিযোগের অবতারণা হয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ধান সংগ্রহের দাবি জানিয়ে আসছি।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. নূরুল হক বলেন, কৃষি কার্ড করার দায়িত্ব কৃষি অফিসারের। ধান ক্রয়ের লটারি হয়েছে ওয়ার্ডভিত্তিক। লটারিতে কোনো গ্রামের কৃষককের নাম বেশি উঠলে কারও কিছু করার নেই।

সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দিন টিপু বলেন, মোহনপুরের কয়েকজনের মৌখিক অভিযোগ পেয়ে ওই ইউনিয়নের তালিকা যাচাইয়ের জন্য আমি সরেজমিনে গিয়েছি। তালিকায় একই পরিবারের ৩ জনের নাম থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, তারা ৩ ভাই ঠিক আছে। কিন্তু তারা আলাদা আলাদা পরিবারভুক্ত। ধান দেওয়ার তালিকা করার সময় বর্মাত্তোরের আগ্রহী কৃষক পাওয়া যায়নি। তাই এই গ্রামে কম কৃষক নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কম সময়ে তালিকার কাজ শেষ করার তাগাদা ছিল। এই বিষয়টির সংশোধন দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকা করার সময় করা হবে। 

প্রসঙ্গত, ২৬ টাকা কেজি দরে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে ৩২ হাজার ৬শ ৬৪ টন ধান কেনা হবে। প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা করে নির্ধারণ হয়েছে। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

 

এসএস/আরআর-৬