করোনা ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে জগন্নাথপুরে ক্রেতাদের ঢল

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর


মে ২১, ২০২০
০৭:৩৫ অপরাহ্ন


আপডেট : মে ২১, ২০২০
০৭:৩৫ অপরাহ্ন



করোনা ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে জগন্নাথপুরে ক্রেতাদের ঢল

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আর বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চলছে ঈদের কেনাকাটা। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর পুরান বাজার ও পৌরশহরের বিভিন্ন বিপণিবিতানে সকাল থেকে নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। সকালে ও দুপুরে উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বৃষ্টির মধ্যেও ঈদ বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপকতা বাড়তে থাকলেও সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় ঈদ বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। লকডাউন সীমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাট-বাজারে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে জগন্নাথপুর বাজারে নারী ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্যনীয়। কেনাকাটায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঈদ বাজারে বিক্রির ধুম পড়েছে। এবার বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হওয়াতে এবং প্রবাসীদের ধারাবারিক সহায়তার কারণে ঈদ বাজার জমে উঠেছে। দেশের অন্য যেকোনো এলাকার চেয়ে এ উপজেলায় লডডাউন সীমিত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা আগেভাগেই বেচাকেনা শুরু হয়। তবে বেচাকেনায় কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ফজলু মিয়া নামের এক ক্রেতা বলেন, আর মাত্র তিন/চার দিন বাকি আছে ঈদুল ফিতরের। কাজের ব্যস্ততার কারণে পরিবার-পরিজনের জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনতে পারিনি। তাই আজ বাজারে এসেছি।

সুলতান মিয়া নামের আরেক ক্রেতা বলেন, নতুন জামা-কাপড় না হলে ঈদের আনন্দই যেন মলিন হয়ে যায়। তাই বৃষ্টির মধ্যেও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কেনাকাটার জন্য এসেছি।  

জগন্নাথপুর বাজারের এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, ক্রেতাদের ভিড় সামলানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। আমরা বার বার তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি বলছি। তবুও ক্রেতারা মানতে রাজি নযন।

জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির উদ্দিন বলেন, একদিকে করোনার ঝুঁকি, অন্যদিকে বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে বাজারে লোকসমাগম প্রচণ্ডভাবে বেড়েছে। কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ঢল লেগেই আছে। বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছেন না। মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। খুবই শঙ্কায় আছি। 

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুলিশ লোকজনকে সচেতন করতে দিনরাত কাজ করছে। ঈদকে সামনে রেখে হাট-বাজারে মানুষের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

 

এএ/আরআর-০৭