ছাতক প্রতিনিধি
মে ৩১, ২০২০
১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট : মে ৩১, ২০২০
০১:২৮ অপরাহ্ন
করোনার সংকটময় এ সময়ে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাই চারটি বিভাগ সামলাচ্ছেন একজন চিকিৎসক।
ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) দায়িত্বের পাশাপাশি, জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ এবং ল্যাব টেকনিশিয়ানের কাজও করছেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাক্তার তোফায়েল আহমদ সনি অনেকটা একাই সামলাচ্ছেন পুরো হাসপাতাল।
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. সাইদুর রহমানের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে আরএমও এর দ্বায়িত্ব ছাড়া জরুরি বিভাগে রোগীদের সেবা দেওয়া, আন্তঃবিভাগে ভর্তি রোগীর চিকিৎসা সেবা এবং ডাক্তার হয়েও ল্যাব টেকনিশিয়ানদের কাজ করতে হচ্ছে তাকে।
জানা যায়, করোনা সংক্রমণের প্রাথমিকদিকে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সম্পর্কে সবার খুব বেশি ধারণা ছিল না। আবার ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব টেকনিশিয়ানদের অনেকেই বৃদ্ধ এবং ডায়াবেটিকস থাকায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করতে যাওয়া ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে চীনের উহান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডাক্তারদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ইউটিউবে ভিডিও দেখে শিক্ষা নেন সনি। নেমে পড়েন সন্দেহভাজন ব্যক্তির নমুনা অর্থাৎ মুখের লালা ও নাকের সোয়াব সংগ্রহে। সেসময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহ করে ছাতকের সুধীজনের কাছে প্রশংসিত হন এই ডাক্তার ।
এছাড়া রোগীদের সংখ্যা, বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদেরও নিয়মিত ব্রিফিং দিতে হয় তাকে।
এব্যাপারে ডাক্তার তোফায়েল আহমদ সনি বলেন, চারটি বিভাগে কাজ করে হয়তো তিনি শারিরীকভাবে কিছুটা কষ্ট পাচ্ছেন তবে দেশের এই ক্রান্তিকালে মানুষের সেবা করতে পেরে তিনি মানসিকভাবে অনেকটা প্রশান্তি পান।
দ্বায়িত্বপালনে করোনা সংক্রমণের ঝুকি সম্পর্কে তিনি বলেন, একজন ডাক্তারের কখনো রোগকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। সব কিছু জেনে বুঝে আমরা এই পেশায় এসেছি। দেশের মানুষের সেবা দেওয়ার মানবিক মূল্যবোধ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এমএ/বিএ-০৫