ওসমানীনগরে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্রে বানান বিভ্রাট

উজ্জ্বল ধর, ওসমানীনগর


ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১
০৬:৪৮ অপরাহ্ন


আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১
০৬:৪৮ অপরাহ্ন



ওসমানীনগরে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্রে বানান বিভ্রাট

সিলেটের ওসমানীনগরে একাধিক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের বানানে ভুল থাকায় তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বানানে দক্ষতা না থাকা ও মুদ্রণজনিত ত্রুটির কারণে অধিকাংশ বানান ভুল হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অনেকে আবেদন করে ভুল সংশোধন করলেও দরিদ্র ও শিক্ষাবঞ্চিত সাধারণ মানুষ অভাব ও অজ্ঞতার কারণে সংশোধন করাতে পারছেন না। ফলে প্রতিনিয়ত তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ওসমানীনগরের মাওলানা মো. আবদুল মতিন গজনভীর নামের ইংরেজি অংশে গজনভী বানান লেখা হয়েছে ‘GHOUZNPVI’। শিক্ষিকা বীনা পানি দে’র জাতীয় পরিচয়পত্রে ‘BINA PANI BEY’ লেখা হয়েছে। অনুরূপভাবে জয়া রানী চক্রবর্তীর নাম ইংরেজিতে লেখা হয়েছে ‘JOYA RANI CHAK’ এবং ফনিন্দ্র দেবনাথের নাম ইংরেজিতে লেখা হয়েছে ‘FANIDR DEBNATH’। একই এলাকার হাজী মো. মুকিদ মিয়ার নামের ইংরেজিতে হাজী বানানটি ‘HAJJI’ লেখা হয়েছে। ইংরেজি প্রথম অংশে ভুলের পাশাপাশি তার নামের অংশে মো. নেই। মো. সাইয়ুম আহমেদের নামের ইংরেজি হয়েছে ‘MD SAUM AHMAD’, আঙ্গুর মিয়ার নাম ইংরেজিতে হয়েছে ‘ANGURA MIAH’ এবং তামান্না খানম ডলির নাম ইংরেজিতে ‘TAMANNA KHANOM DOLY’ ঠিক থাকলেও বাংলায় লেখা হয়েছে 'তাম্মান্না খানম ডলি’। এ রকম অসংখ্য অনাকাঙ্খিত ভুল ও অসঙ্গতি রয়েছে অসংখ্য জাতীয় পরিচয়পত্রে। যে ভুলের কারণে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে পরিচয়পত্রধারীদের। কর্তৃপক্ষের এমন ভুল কোনো প্রকার ফি ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন অফিস কর্তৃক সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

পরিচয়পত্রধারী, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রে মুসলমান ব্যক্তির নামের শুরুতে বাংলায় সংক্ষেপে 'মো.' ও 'মোছা.' ইংরেজিতে ‘MD’ ও ‘MST’ লেখা হয়েছে। সাধারণত কোনো শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ লেখার পর ইংরেজির ক্ষেত্রে ডট বা ফুলস্টপ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে তা ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া অনেকের নামের শেষে 'মিয়া' বানান ইংরেজিতে কোথাও ‘MIA’ আবার কোথাও 'MIAH' লেখা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেকের নামের শেষে দাশ, দে, দেব, ধর, চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন টাইটেলের ইংরেজি বানানে ভুল রয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল লায়েছ দুলাল জানান, ওসমানীনগরে নতুন-পুরাতন মিলে এক লাখ ৪৬ হাজার ৯৬৬ জন ভোটার রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০১৯ সালে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভোটার, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের ১০ হাজার ৪৪৯টি স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য ভোটাররা কাগজে প্রিন্ট করা জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করছেন। সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে যে কেউ উপযুক্ত প্রমাণ দেখিয়ে পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন করতে পারেন।

ওসমানীনগরে গতবছরের এপ্রিল থেকে গত ১০ মাসে ৬৮২টি ছোটখাটো ভুল সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

ইউডি/আরআর-০৩