@Framework : Laravel 6 (IT Factory Admin) @Developer : Faysal Younus Daily Sylhet Mirror | রাতেও চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ভিসি বাসভবনের সামনে অবস্থান
রাতেও চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ভিসি বাসভবনের সামনে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক


জানুয়ারি ১৮, ২০২২
০২:১৮ পূর্বাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ১৮, ২০২২
০২:১৮ পূর্বাহ্ন



রাতেও চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ভিসি বাসভবনের সামনে অবস্থান

 শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সারাদিনের পর রাতজুড়েও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাতে ‘হীরক ভিসির শেষে’ শিরোনামে একটি প্রতিবাদী কনসার্টের আয়োজন করেন তারা। 

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। রাত ২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে নানা শ্লোগান দিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। গানে গানেও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট ১ আসনের সাংসদ ড. এ কে আব্দুল মোমেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে তার ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এসে যোগ দেন। 

এসময় তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সব অভিযোগ শুনেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও জলকামান রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এগুলো দ্রæত সরানোর ব্যবস্থা নেবেন তিনি। আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করবেন বলেও জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের দেখেই অন্যরা শিখে। তাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যেন শান্তিপূর্ণ হয়। কোনো ধরণের সংঘাত ছাড়া আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী মহোদয়। কারণ তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে দেখছেন।  

এদিকে, উপাচার্যের ফটকের সামনে অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। তবে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

সকাল থেকে ভিসিসহ প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বেগবান হয়েছে। দলে দলে এসে আন্দোলনে একাত্মতা জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে পুলিশ থাকবে কেন। তাদের এই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যেতে হবে।

এছাড়া সোমবার সকালে মুক্তমঞ্চের সমাবেশ থেকে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। নানা স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন তারা।

নিজ বাসভবনে ভিসি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বহিরাগত ঢুকে পড়েছে। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে। তাদের ইন্ধনে শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো। তারা প্রশাসনের প্রতি আস্থাশীল। আজকের আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তেমন সম্পৃক্ততা নেই।’

কারও ইন্ধনে শিক্ষার্থীরা যাতে আর বিভ্রান্ত না হয়, সেদিকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তা তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। তাদের দাবি মেনে হল প্রভোস্টও পদত্যাগ করেছেন। শিক্ষার্থীদের আরও যে দাবি রয়েছে, সেগুলো আমি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি।’

উপাচার্যের অভিযোগের বিষয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী সৌরভ চাকমা বলেন, ‘হামলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভিসি এমন কথা বলছেন। তারা (প্রশাসন) অভিযোগ করছে, বহিরাগতরা এসে গুলি চালিয়েছে। কিন্তু সত্য হলো পুলিশ ছাড়া কেউ গুলি চালায়নি। পুলিশের গুলিতেই শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছেন। এখানে পুলিশ ছাড়া কেউ বহিরাগত নেই। পুলিশকে উপাচার্য ডেকে এনেছেন।’

উপাচার্যকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘তিনি একের পর এক মিথ্যা বলে যাচ্ছেন। আমরা আর এই উপাচার্যকে এক মুহূর্ত চাই না। তাকে শাবি ছাড়াতে হব।’

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রবিবার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

আরসি-০৩