সিলেট মিরর ডেস্ক
মার্চ ১০, ২০২৫
০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট : মার্চ ১০, ২০২৫
০৯:১০ পূর্বাহ্ন
নতুন দল নিবন্ধন দেবে ইসি, সোমবার গণবিজ্ঞপ্তি
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য সোমবার (১০ মার্চ) গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে সংস্থাটি।
রবিবার (৯ মার্চ) ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে হলে ইসির দল নিবন্ধনের কাজটা এখনই শুরু করতে হবে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনেই দলগুলোকে আবেদন করতে হবে। আজ এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি আসতে পারে। ডিসেম্বরে ভোট করতে হলে অক্টোবরেই তফসিল দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। সেক্ষেত্রে নতুন দলের আবেদন নেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করতে তিন-চার মাস সময় লাগে। আগস্টের মধ্যে নিবন্ধনের কাজ শেষ করতে চায় বর্তমান কমিশন।
কোনো দল দলীয় প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে সেই দলের ইসির নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। আর দলীয় প্রার্থীর বাইরে থাকা অন্যদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হয়। ইসির তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন নিতে ইচ্ছুক দলগুলোকে প্রাথমিকভাবে আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদনের সময় দেওয়া হতে পারে। এরপর যাচাই-বছাইয়ের শেষে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নতুন দলের নিবন্ধ দেওয়া হবে। আবেদন আহ্বানের বিষয়ে এরই মধ্যে কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৯। এদিকে সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করা নতুন দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই দলটি গঠন করেছে জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এ ছাড়া গত ৭ মাসে আরও ১৬টি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে গত বছর আত্মপ্রকাশ করে ১১টি আর চলতি বছর এ পর্যন্ত তৈরি হয়েছে ৫টি রাজনৈতিক দল। তবে এসব দলের বেশির ভাগের লক্ষ্য অস্পষ্ট। কোনো কোনো দল এখনো রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।
নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম
বিদ্যমান আইন-বিধি অনুযায়ী নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে অফেরতযোগ্য নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা জমা দেওয়াসহ ১০ ধরনের তথ্য আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। দলীয় প্যাডে দরখাস্তের সঙ্গে দলের গঠনতন্ত্র, নির্বাচনি ইশতেহার (যদি থাকে), দলের বিধিমালা (যদি থাকে), দলের লোগো ও দলীয় পতাকার ছবি, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সব সদস্যের নামের তালিকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সর্বশেষ স্থিতি, তহবিলের উৎস, দল নিবন্ধনের আবেদনকারীর ক্ষমতাপত্র, নিবন্ধন ফি বাবদ অফেরতযোগ্য ট্রেজারি চালানের কপি এবং নিবন্ধন শর্তের তিনটির মধ্যে যেকোনো একটি পূরণের দলিল ও কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
নিবন্ধনের জন্য ইসির শর্তাবলি
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯০ (ক) ধারা অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে ইসির তিনটি শর্তের মধ্যে যেকোনো একটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে। সেই শর্তগুলো হলো- ১. স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত যেকোনো সংসদ নির্বাচনে দলটিকে নিজ দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয় লাভ করতে হবে। ২. সেসব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনের ভোটে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনের মোট ভোটের ৫ শতাংশ পেতে হবে। ৩. দলটির একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা অফিস ও কার্যকর কমিটি থাকতে হবে। এ ছাড়া অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল সংযুক্ত করতে হবে।
এসব ছাড়াও নিবন্ধন পেতে আগ্রহী দলটির গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা; কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখা (২০৩০ সালের মধ্যে পূরণ) সহ আরও কিছু বিধান রয়েছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, নতুন দলের নিবন্ধন পেতে তৃতীয় শর্তটি পূরণ করা আবশ্যিক। ১ ও ২ নম্বর শর্ত নতুন দলের পূরণ করার সুযোগ নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ নিবন্ধন পেতে আগ্রহী সব রাজনৈতিক দলকে এই শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ‘নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন’ নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য কিছু শর্ত শিথিলের প্রস্তাব করেছে। তাদের প্রস্তাব হলো, নিবন্ধন পেতে ১০ শতাংশ জেলা ও ৫ শতাংশ উপজেলা বা থানায় দলের অফিস এবং দলটির কমপক্ষে ৫ হাজার সদস্য থাকতে হবে।
২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে নিবন্ধন প্রথা চালু হয়। এ পর্যন্ত ইসির নিবন্ধনপ্রাপ্ত দলের সংখ্যা ৫৪টি। তবে পরবর্তী সময়ে শর্ত পূরণ, শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থতা এবং আদালতের নির্দেশে ৫টি দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। এই দলগুলো হচ্ছে- জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, পিডিপি ও জাগপা। গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবি পার্টি, নুরুল হক নূরুর গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), মাহমুদুর রহমানের নাগরিক ঐক্য এবং গণসংহতি আন্দোলনকে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ইসি দায়িত্ব নেওয়ার পর আদালতের আদেশে নিবন্ধন পায় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি- বিডিপি।
প্রতিটি সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন দলগুলোকে নিবন্ধনভুক্ত করতে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন আহ্বান করে ইসি। আর গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর নতুনদের পাশাপাশি বিগত দিনে নিবন্ধন পায়নি সেরকম দলগুলোও ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারে।
জিসি / ০৩