নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
০৬:৩২ অপরাহ্ন
আপডেট : ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
০৬:৩২ অপরাহ্ন
সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বলয়ভিত্তিক বিভক্তির প্রেক্ষাপটে একসঙ্গে প্রচারণায় নেমে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন দলটির দুই শীর্ষ নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার দুপুরে নগরের আম্বরখানা এলাকায় সিলেট-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় বিএনপি দলীয় সাবেক কাউন্সিলরসহ নগর বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরাও প্রচারণায় যোগ দেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী দুজনই বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। সিলেটের রাজনীতিতে তাঁদের ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি দুটি বলয়ে বিভক্ত বলে পরিচিত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে আরিফুল হক চৌধুরীও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দল মনোনয়ন দেয় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী করা হয় আরিফুল হক চৌধুরীকে।
দলীয় নেতারা বলছেন, সিলেট নগরে দীর্ঘদিন মেয়রের দায়িত্ব পালনের কারণে আরিফুল হক চৌধুরীর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটব্যাংক রয়েছে। বিএনপির একটি অংশের মধ্যেও তাঁর প্রভাব দৃশ্যমান। এতদিন মুক্তাদিরের পক্ষে এসব নেতা মাঠে নামেননি। আরিফুল হক চৌধুরী নিজ প্রচারণা বাদ দিয়ে মুক্তাদিরের পক্ষে মাঠে নামায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা বলেন, এক সময় সিলেট বিএনপিতে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। পরে বিএনপির ‘নিখোঁজ’ নেতা এম ইলিয়াস আলী আলাদা বলয় তৈরি করেন। সাইফুর রহমানের মৃত্যু ও ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার পর দলটি নতুনভাবে মেরুকরণের মধ্যে পড়ে। বর্তমানে মুক্তাদির ও আরিফুলকে ঘিরে সেই বিভক্তি স্পষ্ট। এই প্রেক্ষাপটে তাঁদের একসঙ্গে প্রচারণা দলীয় ঐক্যের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বনেদি পরিবার হিসেবে এলাকাতেও তাঁদের পরিচিতি রয়েছে। ভদ্র ও সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত খন্দকার মুক্তাদির ২০১৮ সালেও এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।
অন্যদিকে আরিফুল হক চৌধুরী শহর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলীয় জনপ্রিয় প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে টানা দুইবার সিলেট সিটির মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সবশেষ সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে তিনি প্রার্থী হননি।
আরসি-০৪