মিনহাজ মির্জা, গোয়াইনঘাট
আগস্ট ১৭, ২০২০
১১:০৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট : আগস্ট ১৭, ২০২০
০৬:০৮ অপরাহ্ন
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর বন্ধ থাকার পর অবশেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) থেকে তামাবিল স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হলো।
গত ১৯ মার্চের পর থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় লকডাউনের কারণে অন্যান্য স্থলবন্দরের মতো সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। বিগত কয়েকদিন ধরে স্থল বন্দরের ব্যবসায়ী সংগঠন এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে কয়েকটি বিধি-নিষেধ মেনে এই স্থলবন্দরটি চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দর।
চালু হওয়ার পর আজ সোমবার দুপুর ১২টা থেকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভারতীয় পাথরবাহী ৩টি এবং ফলবাহী ১টিসহ মোট ৪টি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আগামাীকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরোদমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে বলে তামাবিল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে তামাবিল চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন ছেদু জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা বেশ বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তামাবিল স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার শ্রমিক। এই স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিগত ৫ মাসে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ব্যবসায়ী এবং শ্রমিক মিলে এই স্থলবন্দরের ওপর প্রায় ২০ হাজার মানুষ নির্ভরশীল। তাই আজ থেকে এই বন্দর দিয়ে ফের আমদানি-রপ্তানি চালু হওয়ায় এলাকার সর্বত্র খুশির আমেজ দেখা যাচ্ছে।
তামাবিল স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সজিব মিয়া বলেন, প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ থেকে এই বন্দর দিয়ে ফের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সতর্কতা হিসেবে স্থলবন্দর প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের সহযোগিতায় পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় প্রতিটি ট্রাককে স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বাধ্যতামূলক স্যানিটাইজ করা হবে। এছাড়াও তামাবিল ইমিগ্রেশনে নিয়োজিত মেডিকেল টিম ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
এমএম/আরআর-০২