সিলেটে হাসপাতালে কমছে করোনা রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক


সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
১২:১২ পূর্বাহ্ন


আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
১২:১২ পূর্বাহ্ন



সিলেটে হাসপাতালে কমছে করোনা রোগী

সিলেটের হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমছে। তাই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ তিনটি হাসপাতালের করোনা ইউনিট বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি। 

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলায় হাসপাতালগুলোতে কোভিড রোগীর ভর্তিসংখ্যা কমছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় জেলার হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৮৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। ১৭ সেপ্টেম্বর ভর্তি ছিলেন ৮৬ জন। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর রোগী কমে ৭০ জনে দাঁড়ায়। গত শনিবার ৬৭ জন, রবিবার ৬৬ জন, সোমবার ৬২ জন, মঙ্গলবার ৬৬ জন এবং সর্বশেষ গতকাল বুধবার ৫৫ জন রোগী সিলেটের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ছিলেন। 

সিলেটে করোনা রোগীদের জন্য সরকারি-বেসরকারি মিলে ৪৯০টি আসোলেশন শয্যা প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমছে, তাই রোগী ভর্তির সংখ্যাও কমছে। 

সিলেট করোনা আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. চয়ন রায় সিলেট মিররকে বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে ৩৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত ৩৪ জন এবং ৫ জন করোনাভাইরাসের সন্দেহভাজন রোগী।’ সপ্তাহখানেক আগেও হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এই হাসপাতালে ১০০টি শয্যা রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আগস্টে করোনা পজিটিভ রোগী ছাড়া অন্য কোনো রোগী এখানে ভর্তি করা হয়নি। 

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরুতে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে সিলেটে একমাত্র ‘কোভিড ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল ঘোষণা দিয়ে শুরু হয় চিকিৎসা কার্যক্রম। কিন্তু সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল রোগীতে প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হয় নতুন হাসপাতালের। এ অবস্থায় সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন ও প্রবাসীদের সহযোগিতায় খাদিমপাড়া ৩১ শয্যা হাসপাতাল ও সমান সংখ্যক শয্যার দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ‘কোভিড ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল হিসেবে প্রস্তুত করা হয়। 

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ময়নুল আহসান  বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগীদের জন্য ৩১টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে মাত্র দুইজন রোগী ভর্তি আছেন। আগস্টে হাসপাতালে সব সময় ১০ থেকে ১২ জন করে রোগী ভর্তি থাকতেন। গত এক-দুই সপ্তাহ ধরে রোগী কম ভর্তি হচ্ছেন।’

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুহিবুর রহমান রাসেল জানান, খাদিমপাড়া ৩১ শয্যা হাসপাতালে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এদের মধ্যে ৭ জন করোনা পজিটিভ এবং দুইজন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন। সপ্তাহখানেক আগে এই হাসপাতালে ১৫-১৬ জন করে রোগী ভর্তি ছিলেন।

মাউন্ট এডোরা হাসপাতালেও করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপসর্গ এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩৯ জন। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ১১ জন এবং উপসর্গের রোগী ২৮ জন। এই হাসপাতালে ৫৩টি শয্যা রয়েছে।

এ বিষয়ে হাসপাতালটির সহকারী ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) মো, রাশেদুল ইসলাম সিলেট মিররকে বলেন, ‘সিলেটের অন্যান্য হাসপাতালে রোগী কমলেও আমাদের এখানে আগের মতোই রোগী আছেন। রোগীদের স্বার্থে দেশে যতদিন কোভিড আছে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের করোনা ইউনিট চালু থাকবে।’

রোগী কমার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ‘মানুষ এখন অনেক সচেতন। শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ না হলে তারা হাসপাতালে আসছেন না। এছাড়া সিলেটে করোনার সংক্রমণও কিছু কমেছে। এসব কারণেই হাসপাতালগুলোতে রোগী কমছে।’

জানা গেছে, রোগী সঙ্কটের কারণে সিলেটের ওসমানী মেডিকলে কলেজ হাসপাতালসহ আরও ১১টি হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চারটি হাসপাতাল ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে করোনা রোগী ভর্তি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। 

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল সিলেট মিররকে বলেন, ‘করোনার রোগীদের চিকিৎসার জন্য শামসুদ্দিন ছাড়াও খাদিমপাড়া ৩১ শয্যা হাসপাতাল ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই এসব হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম ছিল, এখন আরও কম। কিন্তু এই দুই হাসপাতালে চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে ৩০ জন। রোগী না থাকলে এসব চিকিৎসককে বসিয়ে রেখে লাভ নেই। তাই জেলা মাল্টিসেক্টরাল কমিটির আগামী সভায় বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করব।’

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যা কমলেও এখন পর্যন্ত করোনা ইউনিট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা করোনায় আক্রান্ত রোগীদের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রেফার করছি।’

বিএ-০১