নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১১, ২০২৬
০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট : এপ্রিল ১১, ২০২৬
০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
প্রান্তিক কৃষককে উৎপাদিত পণ্য আর ফড়িয়াদের হাতে তুলে দিতে হবে না। তিনি সরাসরি ভোক্তার কাছেই বিক্রি করবেন। মধ্যস্বত্বভোগী না থাকায় কম দামে বিক্রি করেও বেশি লাভ করবেন কৃষক। ক্রেতাও তুলনামূলক কম দামে নিরাপদ ও ভালো মানের পণ্যটি হাতে পেয়ে যাবেন। যে কোনো কৃষক চাইলেই এ বাজারে পণ্য নিয়ে আসতে পারবেন বিক্রির জন্য।
কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার পাশাপাশি পণ্যের দামের ব্যবধান কমাতে সিলেটে চালু হচ্ছে ব্যতিক্রমী ‘কৃষকের হাট’। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর শনিবার সকালে এই কৃষকের বাজারের উদ্বোধন করবেন।
সিলেটের টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এমসি কলেজের পাশেই দেশের প্রথম এ ধরণের বাজার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এটি চালু হচ্ছে। এখানকার অভিজ্ঞতা নিয়ে সিলেট সদর উপজেলায় একাধিক বাজারের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এরকম ‘কৃষকের বাজার’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এমন উদ্যোগে দারুণ খুশি কৃষক, ভোক্তাসহ সবাই। সিলেটের টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, ‘এমন উদ্যোগ চালু করা গেলে ভালো। সমস্যা হলো এরকম নানা চমকপ্রদ প্রকল্প চালু হয়। কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়। এটা স্থায়ীভাবে চালু করা গেলে ভালো।’
সিলেট সদর উপজেলার কামাল বাজারের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, ‘এভাবে বাজার চালু করা গেলে ভালো। আমরাও একটু বেশি লাভবান হবো পাশাপাশি ক্রেতারাও কম দামে কৃষি পণ্য পাবেন।’
বাজারটি বাস্তবায়নকারী সিলেট সদর উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে সপ্তাহে দুইদিন এ বাজার চালু থাকবে। পরবর্তীসময়ে ভালো সাড়া মিললে এটি প্রতিদিন চালু করা হবে। উপজেলার যে কোনো কৃষক চাইলেই এ বাজারে তার পণ্য নিয়ে আসতে পারবেন বিক্রির জন্য। এক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাদকতা নেই।
সিলেট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি উপজলায় এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষকের হাট করার। যেখানে কৃষক তার নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে নিজে বিক্রি করবে। এরকম কোনো প্লাটফর্ম এতদিন ছিল না। কৃষকদের তাই পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হতো। এতে অনেক সময় অভিযোগ আসে যে তারা ন্যায্য মূল্য পায় না। তারা সরাসরি বিক্রির ষ্পেস পায় এরকম একটা প্লাটফর্ম করে দেওয়া। এর শুরু হিসেবে সিলেট জেলার মধ্যে এটা প্রথম চালু হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর পরামর্শ দিয়েছেন, আপাতত সপ্তাহে দুইদিন চালু রাখার। যদি সাড়া মিলে তাহলে এটা প্রতিদিন করা এবং স্থায়ী ব্যবস্থা করা।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত জামিল বলেন, ‘কালকে সকাল নয়টায় এটি উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। কৃষকের বাজার উপজেলার সব কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যে কেউ তার উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিয়ে আসতে পারবেন।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন খরিপ মৌসুম তো, খুব বেশি সবজি মাঠে নেই। তারপরও অনেক কৃষকের হয়তো মিষ্টি কুমড়া ছিল, উঠিয়ে রেখেছে। অনেকের লাউ আছে। অনেকের কাচা মরিচ আছে বা অন্য পণ্য আছে তাদের আমরা জানিয়েছি। তারা তাদের পণ্য নিয়ে আসবেন।’ তিনি বলেন, ‘সবজির পাশাপাশি মসলা থাকবে, অনেকে বাড়িঘরে হাস মুরগি পালেন তারা ডিম নিয়ে আসতে পারেন। কেউ ডিম নিয়ে। আসা করি সবই আসবে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম ‘কৃষকের বাজার’ উদ্বোধন করা হচ্ছে সিলেটে। এখানে নিরাপদ পণ্য থাকবে। কৃষক আর ভোক্তার মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনা এই বাজার চালুর লক্ষ্য। কম দামে ক্রেতারা পণ্য পাবেন। আবার মধ্যস্বত্ত্বভোগী না থাকায় কৃষকও কমে বিক্রি করে বেশি লাভ করবেন।’ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের টিলাগড়ে এটি চালু হলেও আস্তে আস্তে আরো সুবিধামত জায়গা দেখে এই বাজার চালু করা হবে। এমনভাবে আমরা করতে চাই যাতে এটি কার্যকর ও চালু তাকে। মানুষের উপকারে আসে।’
এএফ/০২