২৬ বছরেও বাংলাদেশের টাকা শোধ করেনি উত্তর কোরিয়া

সিলেট মিরর ডেস্ক


জুন ২৮, ২০২০
০৯:২১ অপরাহ্ন


আপডেট : জুন ২৮, ২০২০
০৯:২১ অপরাহ্ন



২৬ বছরেও বাংলাদেশের টাকা শোধ করেনি উত্তর কোরিয়া

বাংলাদেশের কাছ থেকে ১৯৯৪ সালে কেনা বিভিন্ন সামগ্রীর মূল্য ১১ দশমিক ৬২ মার্কিন ডলার ২৬ বছরেও পরিশোধ করেনি উত্তর কোরিয়া। শনিবার (২৭ জুন) সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়। 

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২৬ বছর আগে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে বার্টার চুক্তির আওতায় পণ্য আমদানি করে উত্তর কোরিয়া। ওই পাওনা টাকার জন্য চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বাংলাদেশি দূতাবাস উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করেছে। তবে এর কোনো জবাব মেলেনি। 

উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করেছিল সেগুলো হলো-চাল, সিমেন্ট, চা, পাট ও পাটজাত পণ্য, ইউরিয়া সার, পশুর চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, সাবান, ডিটারজেন্ট, টয়লেট্রিজ এবং গ্লিসারিন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিলটি সুরক্ষিত করার জন্য সরকারি মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন ডিভিশনের (এফআইডি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান প্রধান শনিবার (২৭ জুন) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “এটি অনেক পুরানো ঘটনা। এই মুহূর্তে আমি সঠিকভাবে এই তথ্যটি স্মরণ করতে পারছি না।” 

তবে সোনালী ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সূত্র পত্রিকাটিকে জানায়, বাংলাদেশ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম বার্টার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ১২ আগস্ট। চুক্তির আওতায় সোনালী ব্যাংককে বাংলাদেশের পক্ষে এবং বিদেশি বাণিজ্য ব্যাংককে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বার্টার ৫ চুক্তির আওতায় উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে ৬ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনেছিল। কিন্তু ওই পণ্য কেনার সময় কোনো মূল্য পরিশোধ করেনি দেশটি। বার্টার ৫ এর পুরো বকেয়াগুলি বার্টার ৬ এ স্থানান্তরিত হয়েছিল, যা ১৯৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর স্ট্যান্ডিং ৬.২৬ মিলিয়ন ডলারে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ১৯৯৫ সালের ৩১ মার্চ কোনো লেনদেন ছাড়াই বার্টার ৬ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে বেইজিংয়ে বাংলাদেশি দূতাবাস চীনের উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের কাছে বাকি বকেয়া পরিশোধের জন্য কয়েকবার যোগাযোগ করে। তবে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোনো উত্তর দেয়নি কিম জং উনের দেশ।

১৯৯৪ সালে বার্টার ৬’এর স্বাক্ষরের পরে দুই ব্যাংকই স্ব স্ব দেশগুলির পক্ষে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এই আন্তঃব্যাংক চুক্তিতে তিন মাসের ডলার এলআইবিওর হারে সুদ আদায়ের বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০১৪ সালের মধ্যে দেনার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সে বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোনালী ব্যাংক যাতে তার পাওনা পেতে পারে সেজন্য যথাযথ উদ্যোগ নিতে চীনের বাংলাদেশি দূতাবাসের বাণিজ্যিক পরামর্শদাতাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। এরপর, বাংলাদেশ দূতাবাস চীনে উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসকে চিঠি দিয়ে বিলটি পরিশোধের জন্য অনুরোধ করেছে। তবে কোনো লাভ হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেয়নি উত্তর কোরিয়া। 

জেএসএস-০৩/এনপি-০৭