সিলেট মিরর ডেস্ক
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
১০:৪৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট : জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
১০:৪৫ পূর্বাহ্ন
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত এক বছরে লাখ লাখ অভিবাসীর প্রবেশ ঠেকানো, সরকারি সহায়তাকারী সংস্থার ওপর চাপ বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বহু অভিবাসীর সুরক্ষা প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর প্রশাসন। এবার সেই নীতিতে যোগ হচ্ছে আরও কিছু কঠিন ধাপ।
অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে অভিবাসন সংক্রান্ত একাধিক নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এই অভিযানের প্রধান বাস্তবায়নকারী হিসেবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। সংস্থাটির বর্তমান প্রধান জোসেফ এডলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের কর্মকর্তা ও সাবেক আইস (আইসিই) কৌঁসুলি। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কট্টর অবস্থানের জন্য তিনি পরিচিত। প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, সামনে আরও কঠোর পদক্ষেপ আসতে পারে। এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পাঁচটি বড় পরিবর্তন।
কঠোর যাচাই-বাছাই ও বাড়তি প্রয়োগ
নাগরিকত্ব পরীক্ষাকে আরও কঠিন করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএসসিআইএস। ‘সৎ চরিত্র’ প্রমাণের মানদণ্ড আগের চেয়ে কঠোর করা হয়েছে। আবেদনকারীদের শুধু আইনি যোগ্যতা নয়, কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সামাজিক অবদান এবং ব্যক্তিগত আচরণগত ইতিবাচক দিকও দেখাতে হচ্ছে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আবেদন কার্যত স্থবির
সম্প্রসারিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য আশ্রয় ও অভিবাসন আবেদনের প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গেছে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এতে বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রায় ২০ শতাংশ আবেদনকারী বাদ পড়ছেন। নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশের পাসপোর্টধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও নতুন সুবিধার আবেদন, নবায়ন কিংবা স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পারছেন না। কবে এই অচলাবস্থা কাটবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
কর্মভিসার মেয়াদ কমানো
বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, এতে প্রতারণা কমবে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।
সরকারি সহায়তার প্রয়োজন নেতিবাচক হিসেবে বিবেচনা
নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সহায়তা নিলে তা অভিবাসন আবেদন বাতিলের নেতিবাচক কারণ হিসেবে ধরা হবে। যদিও অনথিভুক্ত অভিবাসীরা SNAP বা Medicaid-এর মতো সুবিধা পান না, তবে মিশ্র-স্ট্যাটাস পরিবারে থাকা কিছু বৈধ অভিবাসী বা মার্কিন নাগরিক এসব সহায়তা পান। নতুন নিয়মে তারাও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
মানবিক কর্মসূচি বাতিল, প্রায় ১০ লাখ মানুষের স্ট্যাটাস হারানো
ট্রাম্প প্রশাসন ১১টি দেশের নাগরিকদের জন্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিল করেছে। এতে ১৯৯৮ সাল থেকে সুরক্ষায় থাকা হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ার প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি কিউবান, হাইতিয়ান, নিকারাগুয়ান ও ভেনেজুয়েলানদের জন্য চালু থাকা প্যারোল কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় আরও প্রায় ৫ লাখ মানুষ আইনি মর্যাদা হারিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ না ছাড়লে তাদের বহিষ্কারের ঝুঁকি রয়েছে।
অভিবাসন নীতির এই কড়াকড়ি প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো আমেরিকান জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করা। তাঁর ভাষায়, প্রশাসনের ‘সাধারণবোধসম্পন্ন সংস্কারগুলো’ সেই লক্ষ্যকেই প্রতিফলিত করে।
আরসি-০১