ফাহিমের সঙ্গেই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিল খুনি

সিলেট মিরর ডেস্ক


জুলাই ১৬, ২০২০
১০:৪৭ অপরাহ্ন


আপডেট : জুলাই ১৬, ২০২০
১০:৪৮ অপরাহ্ন



ফাহিমের সঙ্গেই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিল খুনি

হত্যাকাণ্ডের শিকার পাঠাও-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহের খুনি তার সঙ্গেই ঘটনার দিন তার অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিল। ফাহিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে সে সময় খুনি সঙ্গে করে ইলেকট্রিক করাতও নিয়ে গিয়েছি। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের নিজের ফ্লাটে হত্যা করা হয় ৩৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি এই টেক মিলিওনিয়ার ও রাইড শেয়ার পাঠাও-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ। খবর ডেইলি মেইলের।

সালেহের বোন মঙ্গলবার বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্টে যায়। সেখানে গিয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে তার ভাইয়ের শরীরের খন্ডাংশ দেখতে পান। তিনি দেখেন, সালেহ’র হাত-পা, মাথা, শরীর টুকরো করে রাখা হয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, একজন প্রশিক্ষিত খুনির মাধ্যমে এটা পেশাদার ব্যক্তির কাজ। ওই খুনি সালেহ’র সঙ্গেই লিফটে ওঠেন। লিফটটি সালেহ’র অ্যাপার্টমেন্টে সামনে খোলার পর ওই খুনিও তার সঙ্গে নামেন। তারা জানায়, ওই খুনি মাস্ক, গ্লাভস, টুপি এবং ‘নিনজা আউটফিট’ পরেছিলেন। তার সঙ্গে একটি স্যুটকেসও ছিল। সম্ভবত হত্যার পর সালেহ’র দেহ কাটার জন্য সেখানে যন্ত্রপাতি ছিল।

তবে সূত্রগুলো এনবিসিকে জানিয়েছে, যখন সালেহ’র বোন অপ্রত্যাশিতভাবে তার ভাইয়ের অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছায়, তখন খুনি ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে তিনি ইলেকট্রনিক করাত রেখে যান। সেটা তখনও ছকেটে লাগানো ছিল। খুনি একটি সার্ভিস এক্সিট দিয়ে পালিয়ে যান এবং এখনও পলাতক রয়েছেন।

পুলিশের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। তবে এর চেয়ে বেশি কিছু জানায়নি তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সালেহ’র একজন বন্ধু বলেছেন, প্রতিবেশীরা চিৎকার ও উচ্চ শব্দ শুনেছেন, তবে কেউ পুলিশকে খবর দেয়নি।

সালেহ উন্নয়নশীল দেশে এবং প্রযুক্তির ব্যবসায় বিনিয়োগ করার জন্য পরিচিত। তার ব্যবসার মধ্যে নাইজেরিয়ায় পাঠাও-এর মতো ‘গোকাডা’ নামে মোটরসাইকেল সার্ভিস রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে তার ব্যবসা খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। কলম্বিয়ায় রাইড শেয়ারিং কোম্পানিও বিনিয়োগ করেছেন সালেহ।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে জন্ম ফাহিমের। তার বাবা সালেহ উদ্দিন বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে আর মা নোয়াখালীর মানুষ। ফাহিম পড়াশোনা করেছেন ইনফরমেশন সিস্টেম নিয়ে আমেরিকার বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকতেন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে।

 

এএফ/০৪