ফেসবুকে ‘এনগেজমেন্ট’, রিচ বাড়ানোর কৌশল

ইফতি সিদ্দিকী


জুলাই ২৪, ২০২০
০১:০৬ পূর্বাহ্ন


আপডেট : জুলাই ২৪, ২০২০
০১:০৬ পূর্বাহ্ন



ফেসবুকে ‘এনগেজমেন্ট’, রিচ বাড়ানোর কৌশল

ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পেজের অর্গানিক রিচ বিষয়টা। মূলত বলা যায়, এটা আপনার অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, পেজের অর্গানিক রিচের ক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই আশানুরূপ ফলাফল পাচ্ছেন না পেজ রিচ এর ক্ষেত্রে। গত বছরের নভেম্বরে বিজনেস ইনসাইডার একটি জরিপ চালিয়ে দেখেছে, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ বড় কোম্পানি ফেইসবুক পেজ থেকে সুবিধা আদায় করতে পারছে না। ৩২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এই মাধ্যমে আগের মতো খরচ করে না। ২৭ শতাংশ আবার ফেইসবুককে বিশ্বাস করে না। তাদের ধারণা, বুস্ট করলেও ফেইসবুক ইচ্ছা করে ‘রিচ’ বাড়ায় না। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এমন হচ্ছে?

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট সিনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ায় নিউজফিডে জট লাগার মতো পরিস্থিতির  সৃষ্টি হয়েছে। পেজে এখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীই আছেন প্রায় ৬৬ মিলিয়ন! সংখ্যা এভাবে বাড়ায় আগের মতো ‘অর্গানিক রিচ’ আর হচ্ছে না। অন্যদিকে বাস্তবতা হলো ফেইসবুক বাদ দিয়ে ব্যবসা করা সহজ নয়; বিশেষ করে বাংলাদেশে তো নয়ই। তাহলে উপায়? বাজারে টিকে থাকতে হলে ফেইসবুককে গুরুত্ব দিতেই হবে। এখনকার দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে গড়ে ৪৬ শতাংশ গ্রাহক আসছে ব্যবসায়ীদের। এর মধ্যে ৪২ শতাংশই ফেইসবুকের! এই মাধ্যম থেকে ফায়দা নিতে হলে কৌশলী হতে হবে। কিছু মৌলিক বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে। প্রথমেই অর্গানিক রিচ কী সেটা জেনে নেয় যাক।

অর্গানিক রিচ : কোনো পেইড ডিস্ট্রিবিউশন ছাড়া অর্থাৎ বুস্টের মতো কাজ ছাড়া আপনার পেজ থেকে কত মানুষ আপনার কনটেন্ট দেখছেন, সেটিকে বলা হয় অর্গানিক রিচ। পেইড প্রমোশন করলে আপনি তাৎক্ষণিকভাবে সুবিধা পেতে পারেন। একই সঙ্গে এটি আপনার অর্গানিক রিচে প্রভাবও ফেলতে পারে।

এই অর্গানিক রিচ অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। একটি পোস্ট দেওয়ার পর কত মানুষ ক্লিক করছেন, লাইক করছেন, কমেন্ট করছেন সেটির অনুপাতে ওই পোস্টটি ছড়াতে থাকে। পেজ বাড়ার কারণে ২০১৬ সাল নাগাদ অর্গানিক রিচ ৫২ শতাংশ কমে গেছে। আশার কথা হলো ‘অর্গানিক রিচ’ কমার এই যুগেও আপনি সফল হতে পারবেন। আমার আজকের লিখা এই প্রসঙ্গেই, কীভাবে আপনি আপনার পেজের অর্গানিক রিচ বাড়তে পারবেন। অনেকেই ইনবক্সে বলছেন এই বিষয়ে লিখার জন্য, তাই আজকে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে কিছু জিনিষ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। অর্গানিক রিচ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়।

ভিডিও সব সময় ভালো রিচ করে, তাই আপনি প্রোডাক্ট নিয়ে একটি ভিডিও বানাতে পারেন। কাস্টমারের ভিডিও ফিডব্যাক নিতে পারেন, পরে এডিট করে পোস্ট করলেন। মনে করেন আপনার খাঁটি মধুর বিসনেস, আপনি একটি ভিডিও বানাতে পারেন মধু আহরণের, আপনার কাস্টমার এইগুলো ভিডিও আগ্রহ ভরে দেখবে, এতে আপনার আপনার পেজের রিচ খুবই দ্রুত বাড়বে ফেইসবুক আগ্রহের ভিত্তিতে চলে; উদ্দেশ্য নয়। তাই শুধু গতানুগতিক প্রোডাক্ট ও সার্ভিস পোস্ট করে গেলে হবে না। ৮০ শতাংশ পোস্ট হতে হবে সামাজিক। না হলে পোস্টপ্রতি ক্লিক বাড়বে না। এ জন্য সুন্দর সুন্দর গ্রাফিক্সে নান্দনিক মন্তব্য পোস্ট করতে পারেন। ছোট ভিডিও পোস্ট করতে পারেন, যেটি হবে শৈল্পিক। মাঝে মাঝে লাইভ করতে হবে। পেজের অডিয়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। তাদের মন্তব্য নিতে হবে।

আপনি পোস্টটি কার জন্য করছেন সেটি সম্পর্কে পরিষ্কার জানতে হবে। পোস্টের লেখা ও ছবি টার্গেট অডিয়েন্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কারা কেনে, তারা কী ধরণের লেখা বা ছবি দেখতে চায়। প্রয়োজনে আপনার রেগুলার কাস্টমারদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন যে আপনার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তারা কী ধরণের আপডেট আশা করে আপনার পেজের কোনও পোস্ট ভাইরাল হলে নিশ্চয় আপনার ভালো লাগে। কেননা, এটা আপনার পেজের এনগেজমেন্ট অনেক বাড়িয়ে দেয়। তাই মজার কিছু বানানোর চেষ্টা করুন। ফ্যানদের প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন। এতে আপনার পেজের এনগেজমেন্ট বাড়বে। যার ফল পাবেন পরবর্তী পোস্টগুলোতে।

আপনার পেজে শুধু অনুসারী বাড়াতে থাকলে কোনো লাভ হবে না। কনটেন্ট ভালো না হলে বরং রিচ কমতে থাকবে। এর মানে হলো, আপনার প্রাসঙ্গিক পোস্ট দিতে হবে। কনটেন্ট তৈরিতে পরিশ্রম করতে হবে। এমন কনটেন্ট দিতে হবে যা মানুষের জন্য উপকারী।

এনগেজমেন্ট বাড়ানোর একটি ভালো উপায় হলো ফ্যান-ফলোয়ারদের কাছে প্রশ্ন রাখা। এজন্য আপনি ফিল ইন ব্ল্যাঙ্ক ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন। আবার পপআপ টাইপের প্রশ্ন করতে পারেন। যেমন একটা উদাহরণ দিই। লাক্সারি গাড়ির কথা মনে হলে, আপনার কোন গাড়ির কথা প্রথমে মাথায় আসে? ফ্যানদের কাছে এরকম প্রশ্ন করুন। দেখবেন, তারা আপনার পোস্টে কমেন্ট করতে শুরু করেছে।

আপনার পেজের কন্টেন্ট ও ব্লগ রচনার ক্ষেত্রে সময় ও গুরুত্ব দুটিই বিনিয়োগ করতে হবে। এতে করে আপনার কাস্টমার এর দৃষ্টি আকর্ষন এর মাধ্যমে রিচ বাড়ানো সম্ভব। এইভাবে সময়, বাজেট ও গুরুত্ব বিনিয়োগ করে অরগানিক রিচের পাশাপাশি এডিশনাল রিচ ও বাড়ানো সম্ভব।

বাজারে টিকে থাকতে হলে ফেইসবুককে গুরুত্ব দিতেই হবে। এখনকার দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে গড়ে ৪৬ শতাংশ গ্রাহক আসছে ব্যবসায়ীদের। এর মধ্যে ৪২ শতাংশই ফেইসবুকের! এই মাধ্যম থেকে ফায়দা নিতে হলে কৌশলী হতে হবে। কিছু মৌলিক বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে।

ফেসবুক ইনসাইটস টুলস ব্যবহার করলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ইউজার আসলে কোন ধরনের অথবা কেমন এবং তাদের কোন অংশ আপনার কনটেন্ট এর বিষয়বস্তু বেশি পছন্দ করছেন।

আপনি আপনার কৌশলগুলি ব্যবহার করে কি ফলাফল পাচ্ছেন তা আপনি ইনসাইট টুলসে দেখতে পাবেন যে ইউজারদের প্রতিক্রিয়া আসলে তা কেমন আসছে,সেই সঙ্গে আপনি নিয়মিত ভাবে আপনার ফেসবুক ভিজিটর বাড়ানোর কৌশল গুলি পরিবর্তন করে ভাল ফলাফল নিয়ে আসতে পারবেন।

প্রথমত ছবি অনেক মানুষকে আকৃষ্ট করে, দ্বিতীয়ত এটি সাধারণ পোস্টের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে নিউজ ফিডে টিকে থাকে। তাই পেইজের প্রতিটি পোস্টেই প্রাসঙ্গিক ছবি যুক্ত করার চেষ্টা করুন। ছবিগুলো যত বেশি মানুষের চোখে পড়বে, আপনার পেইজের রিচ ততই বাড়তে থাকবে।

মোবাইলের উপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া : প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ফেসবুক মোবাইলে চালায়। তাই যেসব কনটেন্ট বা লিঙ্ক মোবাইলের জন্য বেশি উপযোগী সেগুলো নিঃসন্দেহে ভালো প্রচার পাবে। তাই পোস্ট প্রমোশনের সময় দেখে নিন সেটি ডেস্কটপ, মোবাইল বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কেমন দেখাবে।

আশা করি উপরোক্ত বিষয়গুলো একটু সচেতনতার সঙ্গে লক্ষ্য রাখলেই আপনি আপনার ফেসবুক পেজের অর্গানিক রিচটা কিছুটা হলেও ঊর্ধ্বগামী করতে পারবেন।

মনে রাখবেন, শুধু  বেশি  বেশি পোস্ট করাই অর্গানিক রিচ করার একমাত্র উপায় নয় বরং এটার নেগেটিভ সাইড  বেশি।

সঠিক নিয়ম মেনে পেজ চালান, ব্যবসা করুন, সোশ্যাল মিডিয়ার এই স্বর্ণযুগে নিজেকে পিছিয়ে রাখবেন না শুধুমাত্র সামান্য কিছু ভুলের কারনে। মনে রাখবেন, আপনার একেকটি পেজ কন্টেন্ট হতে পারে আপনার ব্যবসার জন্য একেকটি সম্পদ।

লেখক : তরুণ উদ্যোক্তা