মৌলভীবাজারে ডাকাতিরোধে যৌথ পাহারায় পুলিশ-জনতা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি


নভেম্বর ২০, ২০২০
০৪:৫৩ অপরাহ্ন


আপডেট : নভেম্বর ২০, ২০২০
০৬:০১ অপরাহ্ন



মৌলভীবাজারে ডাকাতিরোধে যৌথ পাহারায় পুলিশ-জনতা

মৌলভীবাজার জেলায় পুলিশের সদস্য সংখ্যা ১১৮২জন। এর মধ্যে বিভিন্ন স্পেশাল দায়িত্বে এর একটি অংশ ব্যস্ত থাকায় মাত্র ৮০০ জনকে সরাসরি অভিযানে পায় মৌলভীবাজার পুলিশ। কিন্তু জেলায় জনসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। জাতিসংঘের মতে যেখানে ৪০০ জন মানুষের বিপরীতে একজন পুলিশ থাকার কথা, সেখানে মৌলভীবাজারে ২০ লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয় ৮০০ পুলিশকে।

তবে এই সংখ্যা নিয়ে সারাবছর কাজ করলেও পুলিশকে চ্যালেঞ্জে পড়তে হয় শীত মৌসুমে। এই সময়ে ডাকাতি বেড়ে যায়। মূলত শীতটাই ডাকাতির মৌসুম। তবে এ বছর একটি বিকল্প উপায় বের করেছে মৌলভীবাজার পুলিশ। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমদের পরিকল্পনায় ‘পুলিশ-জনতার যৌথ পাহারা কার্যক্রম’ নামে ডাকাতি প্রতিরোধে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের জনবল কম, কিন্তু এই অজুহাতে ডাকাতি মেনে নেওয়া যাবে না। তাই ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ সুপার স্যার সাধারণ জনগণকে পুলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে পুলিশ-জনতা যৌথ পাহারা নামে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন যাতে কোনোভাবেই মৌলভীবাজারে ডাকাতি না হয়।’  

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় এই কার্যক্রম রাতভর ঘুরে দেখেন পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ। তিনি পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্য ও সাধারণ জনগণকে উৎসাহ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু নাসের মোহাম্মদ রিকাবদার, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াছিনুল হক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পরিমল দেব ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) বদিউজ্জামান। স্ব স্ব এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার যুবক-প্রবীণরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ছড়াপার এলাকার লিটন মিয়া পাহারারত অবস্থায় জানান, তারা নিয়ম করে পুলিশের সঙ্গে পাহারা দিচ্ছেন। তবে পুলিশ ছাড়াও তারা পাহারা দেন। সমস্যা হলে মোবাইল ফোনে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তারা এলাকায় অপরিচিত কাউকে দেখলে তার তথ্য জানতে চান। সন্দেহ হলে টহল পুলিশকে খবর দিলে তারা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসেন। 

একাটুনা ইউনিয়নের ইসমাইল মিয়া বলেন, ‘এই উদ্যোগের কারণে ডাকাতরা ডাকাতি করতে পারবে না। এ কারণে আমরা নিরাপদে আছি বলে মনে করছি।’ 

পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ বলেন, ‘জনবল-যানবাহন সংকট দীর্ঘদিনের। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সেই সংকট দিন দিন কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশ পুলিশ। তবে যে সমস্যাই থাকুক আমরা কিন্তু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে। তাই সাধারণ জনগণকে আমরা পুলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে ডাকাতি প্রতিরোধের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। যদিও পুলিশের কাজ সবসময় সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করেই সম্পন্ন হয়। তবে যেহেতু ডাকাতিমুক্ত মৌলভীবাজার বাস্তবায়ন আমাদের উদ্দেশ্য এবং শীত মৌসুমে ডাকাতি বেশি হয়, তাই আমরা এই সময়টাকে একটু আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে আগাম ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের সফলতা সাধারণ মানুষ পাবে এবং মৌলভীবাজার ডাকাতিমুক্ত হবে।’ 

 

এসএইচ/বিএন-০২/আরআর-০২