মুজিববর্ষে হাসি ফুটছে গৃহহীনদের চোখে-মুখে

উজ্জ্বল ধর, ওসমানীনগর


নভেম্বর ২০, ২০২০
০৬:৫০ অপরাহ্ন


আপডেট : নভেম্বর ২০, ২০২০
০৬:৫০ অপরাহ্ন



মুজিববর্ষে হাসি ফুটছে গৃহহীনদের চোখে-মুখে

সিলেটের ওসমানীনগরের ৫০ বছর বয়সী হামদু মিয়া পেশায় রিকশাচালক। নিজের অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য প্রায় ২ যুগ আগে ভিটে-মাটি বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েও তাকে বাঁচাতে পারেননি। সেই থেকে গৃহহীন হামদু মিয়ার বাস কলোনীতে। রিকশার প্যাডেলের মতো তার জীবনও ঘুর্নায়মান। পরিবারের ৭ সদস্য নিয়ে থেকেছেন কখনও তাজপুরে, কখনও গোয়ালাবাজারে। একখন্ড জমি বা নিজের একটি ঘর- এমন স্বপ্ন বুকের মধ্যে লালন করতেন তিনি। কিন্তু নিজের অসমর্থ শরীর আর উচ্চ বাজারমূল্যে তা একসময় ফিকে হয়ে আসে। কিন্তু মুজিববর্ষে তার ফিকে হয়ে আসা স্বপ্নটা আবারও ডাল-পালা মেলেছে। এবার মুজিববর্ষে তিনি সরকারের কাছ থেকে ভূমিসহ একটি ঘর পাচ্ছেন।

সিলেটের ওসমানীনগরে এমন কষ্টে থাকা হামদু মিয়ার মতো অনেক পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন কষ্টে থাকা এসব অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ঘর নির্মাণের জন্য অবৈধ দখলে থাকা সরকারি ভূমি উদ্ধারে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উপজেলার কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তার।

জানা যায়, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গৃহ ও ভূমিহীনদের (‘ক’ শ্রেণির) ঘরসহ ভূমি উপহার দিতে ইতোমধ্যে কিছু সরকারি জায়গা চিহ্নিত করে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি জায়গায় তাজপুর ইউনিয়নের কাশিপাড়ায় ১০টি এবং দয়ামীর ইউনিয়নের বড় দিরারাই খালপাড় এলাকায় ১০টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুর্যোগ সহনীয় প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। উপজেলার প্রকৃত গৃহ ও ভূমিহীনদের জন্য আরও ঘর নির্মাণের জন্য প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি ভূমি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ভেড়ারচকে দেড় একর, বুরুঙ্গা ইউনিয়নে তিলাপাড়ায় ৭০ শতক, পেয়ারাপুরে ৫০ শতক, দয়ামীর ইউনিয়নের চিন্তামনিতে ৪০ শতক ও দিরারাই এলাকায় দেড় একরসহ প্রায় সাড়ে ৯ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মুজিববর্ষেই ঘরগুলো তৈরি করে সুবিধাভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের তালিকা প্রণয়ন করা হলেও যাছাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অসহায়দের চিহ্নিত করে এর সংখ্যা নিরূপণ করার জন্য কাজ চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় জানান, ইতোপূর্বে জমি আছে ঘর নেই এমন ১৪৫টি পরিবারকে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আরও ঘর নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার কোনো মানুষ গৃহ ও ভূমিহীন থাকবে না। মুজিববর্ষে সরকারি জায়গায় গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। সে লক্ষ্যে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি ভূমি উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৯ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। ২০টি ঘরের নির্মাণের কাজ চলছে এবং উদ্ধারকৃত ভূমিতে আরও ঘর নির্মাণের জন্য চুড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইউডি/আরআর-০৫