সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, নিত্যপণ্যে দাম বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক


নভেম্বর ২২, ২০২০
১২:১২ পূর্বাহ্ন


আপডেট : নভেম্বর ২২, ২০২০
১২:১২ পূর্বাহ্ন



সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, নিত্যপণ্যে দাম বাড়তি

সিলেটের বাজারে দীর্ঘদিন পর সবজির দাম কমেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে সরবরাহও। এতে করে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তবে নিত্যপণ্যের মূল্য যথারীতি বৃদ্ধির চক্রেই বন্দি। 

শুক্রবার সিলেট নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন বেশিরভাগ সবজি প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শীতকালীন সবজি মূলা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় গত সপ্তাহে মূলা ৪০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হয়। মাঝারি আকারের একটি ফুলকপির দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গত সপ্তাহে দাম কিছুটা বেশি ছিল। 

বেশি কমেছে শিমের দাম। এতদিন যে শিম প্রতি কেজি ৭০ টাকার বেশি ছিল, তা ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হতে দেখা যায়। লাউও দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ পাওয়া যাচ্ছে আকার ও বাজারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। 

তবে দাম কমেনি টমেটোর। গত সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহেও ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এই সবজি। কাঁচামরিচের দাম রয়েছে উঠানামার মধ্যে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের আম্বরখানা বাজারে কাঁচামরিচ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। বিক্রেতা জালাল মিয়া বলেন, ‘গতকাল সকালে ৯০ টাকা করে বিক্রি করলেও বিকেলে তা ৭০ টাকায় নেমে আসে। হিসেব কিছু মেলাতে পারিনি। তাই ব্যবসার স্বার্থে আমাকেও কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে।’

এদিকে, বাজারে এসেছে কলিসহ নতুন দেশি পেঁয়াজ। প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলসি ৫০ ও বার্মার পেঁয়াজ ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দামে তুলনামূলক কম ইরানী পেঁয়াজের। বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায় ৩৫ টাকা কেজি দরে এই পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। 

সবজির বাজারে স্বস্তি এলেও নিত্যপণ্যের বাজারে দাম ছিল বাড়তি। এতে করে ক্রেতাদের স্বস্তি যেন মুহ‚র্তেই মিলিয়ে যায়। বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরু চালের দাম আবার বেড়েছে। সরু মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং মানভেদে নাজিরশাইল কেজিতে ৬০ থেকে ৬২ টাকা দরে বিক্রি হয়। মাঝারি মানের চাল প্রতি কেজি ৫২ থেকে ৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের মোটা চালের দাম ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। খুচরা বাজারে খোলা তেলের দাম ২ টাকা করে বাড়লেও সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ১০ টাকা। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০৫ টাকা ও প্যাকেটজাত ৯৮ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। লিটারে দাম আরেকটু কম। 

ক্রমাগত বৃদ্ধির মধ্যেই আছে আলুর দাম। সিলেটের বিভিন্ন বাজারে পুরোনো আলু প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। গত ২০ অক্টোবর কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আলুর দাম খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তবে শুক্রবার নগরের পাইকারি দোকানে আলু প্রতি কেজি ৪৫ টাকা করে দাম হাকছিলেন বিক্রেতারা। নগরের চৌকিদেখি এলাকার বিক্রেতা ফাহিম আহমেদ সিলেট মিররকে বলেন, ‘সরু চালের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই ৭০ টাকার কমে প্রতি কেজি বিক্রি সম্ভব নয়।’

আরসি/বিএ-০২