নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১৮, ২০২৫
১২:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট : জানুয়ারি ১৮, ২০২৫
১২:৪০ অপরাহ্ন
‘ওষুধে যে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে, সেটি কমানো হবে বলে আশা করছি’, আজ শনিবার দুপুরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল ও কলেজের চিকিৎসক এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।
উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, ‘যিনি অর্থ উপদেষ্টা, উনি তো পুরো বাংলাদেশের আর্থিক বিষয়টা দেখেন। ওনার অবস্থাটা দেখেন, আমরা যখন দায়িত্ব নিলাম টাকাপয়সা, ডলারের যথেষ্ট সংকট ছিল। সার কিনতে গিয়ে দেখলাম, আমাদের কাছে সেই পরিমাণ যথেষ্ট ডলার নেই, যা দিয়ে আমরা সার কিনতে পারি। তার মধ্যে আগের সরকারের অনেক টাকা কাতার ও সৌদি আরবে রয়ে গিয়েছিল, যেগুলো পরিশোধ হয়নি। তখন আমাদের কম পরিমাণ সার কিনে আগের টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। অর্থাৎ অবস্থা বুঝেই তো ব্যবস্থা করতে হয়েছে।’
ওষুধে ভ্যাট বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সে সময় কেবিনেটে বলেছিলাম, এগুলো আর বাড়ায়েন না। যা–ই হোক, তিনি (অর্থ উপদেষ্টা) এগুলো কনসিডার করবেন। সামনে আরও ভালো কিছু আমরা আশা করছি। যেটা বাড়ানো হয়েছে, সেটি কমানো হবে বলে আশা করছি।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েই দিয়েছেন, ডিসেম্বর নাগাদ অথবা আরও কিছু সংস্কার করতে যদি বাধ্য হয়, তাহলে সেটা জুনে।
স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি তো এখনো জানি না, সংস্কার কমিশন কী কী প্রস্তাব দেবে। তবে যতটুকু দেবে, আমাদের তরফ থেকে তাদের বলেছিলাম, কিছু স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাব দিতে, যেগুলো আমরা করে ফেলতে পারি। কারণ, আমাদের সময়টা তো.. আমরা বুঝতেই পারছেন, বেশি সময় না।’
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তো আপনারা নিজেরাও দেখছেন। স্বাস্থ্য খাতে অনেক রকমের দুর্নীতির চিত্র আমরা দেখছি। যেমন সিলেটের মধ্যেই দেখেন, এখানে দুর্নীতি হয়েছে কি না, সেটি বলব না, কিন্তু কোনো প্ল্যান হয়নি। কারণ, একটি বিল্ডিং বানালাম (জেলা হাসপাতাল), সে বিল্ডিংয়ের সঙ্গে তো আমার ম্যানপাওয়ার এবং বিল্ডিং দুটি একযোগে হতে হবে। ওইটা না হলে কী করে হাসপাতালটা চালু করব। এ রকম ময়মনসিংহে ২২ বিল্ডিং হয়েছে, কিন্তু হাসপাতাল হয়নি। তবে কেন আমি বিল্ডিংটা বানালাম, কোনো যন্ত্রপাতি নেই, কোনো ম্যানপাওয়ার নেই। মানিকগঞ্জে দুটি মেশিন কেনা হয়েছিল, এমআরআই মেশিন। এমআরআই মেশিন একটা জন্ম থেকেই ওইটা গরম হয়ে যায়, ওইটা চলে না। এগুলো কেনার সময়ই গন্ডগোল হয়েছে। যে সিস্টেমে দুর্নীতি করাকে নাকচ করে দিবে, সে রকম সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে আমাদের।’
হাসপাতালগুলোতে জনবল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনবল তো দিতে হবে, কিন্তু দিনে দিনে তো ডাক্তার বানাইতে পারব না, নার্স বানাইতে পারব না। কাজেই আমরা দেখব যে টোটাল আমাদের কী আছে, তার মধ্য থেকে কাকে কতটুকু দিলে চলে যাবে।’
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, বিষয়টি তিনি শুনেছেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছেন বলেও জানান।
এ সময় স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালকসহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
এএফ/০৭