সিলেট মিরর ডেস্ক
জানুয়ারি ৩০, ২০২৫
০২:১৮ অপরাহ্ন
আপডেট : জানুয়ারি ৩০, ২০২৫
০২:২২ অপরাহ্ন
ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযান নীতিমালা চুড়ান্ত ও দ্রুত গেজেট প্রকাশসহ ৮ দফা দাবিতে সিলেটে মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি ও বিআরটিএ চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা -ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখা।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নগরের আম্বরখানাস্থ সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে সহস্রাধিক শ্রমিক জমায়েত হয়ে মিছিল বের করেন।মিছিলটি বিআরটিএ কার্য ালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।
রিকশা, ব্যাটারি রিকশা -ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি প্রণব জ্যোতি পালের সভাপতিত্বে ও সহ সভাপতি মনজূর আহমদের সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সংগঠনের মহানগর শাখার প্রধান উপদেষ্টা আবু জাফর।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি শহীদ আহমদ, ইয়াছিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন, ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দের মধ্যে শেখ রফিক, ইউনুস আলী, সৈকত আহমদ, মিজান মিয়া, আজিবর,সিমান্ত রায়, আবুল খায়ের, মিন্টু যাদব, শফিকুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম,বিলাল আহমদ, আহমদ, প্রমূখ।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ৫০ লাখ চালক পরিবার এইসব ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার ও সমজাতীয় যানবাহনের উপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। এইসব যানবাহন তৈরি, মেরামত, খুচরা যন্ত্রাংশ নির্মাণ, বিক্রি, চার্জিং সহ নানা ধরনের কাজে অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্ভরশীল। দেশের সকল জেলা ও বিভাগে নগর পরিবহণ নেই ফলে কোটি কোটি মানুষ ব্যাটারি চালিত যানবাহন ব্যবহার করে থাকে। এই খাত যেমন বিপুল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
এসব যানবাহন বিদ্যুতে চলে বলে পরিবেশ দূষণ কম করে জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে এদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরি এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়। এইসব বাহন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, চালকেরা বিদ্যুৎ চুরি করে না বরং বর্ধিত দামে ( প্রায় ২৫ টাকা ইউনিট) বিদ্যুৎ কিনে থাকে। তাই কর্মসংস্থান, জীবিকা, যাতায়াত এবং দেশের অর্থনীতির বিকাশের কথা বিবেচনা করলে এই খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তারা বলেন, ‘বর্তমানে যে রাজস্ব ঘাটতি চলছে সেক্ষেত্রে দ্রুত নীতিমালা চুড়ান্ত করে ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত বাহনকে নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স এর আওতায় আনলে রাজস্বে কয়েক হাজার কেটি টাকার যোগান নিশ্চিত হবে। একইসাথে দেশীয় গাড়ি শিল্পে একটি বিপ্লব, কর্মসংস্থান ও শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। যেখানে শুধু প্রয়োজন হবে দুর্নীতিমুক্ত সঠিক ব্যবস্থাপনা। ছাত্র শ্রমিক জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে এখন এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। এই নতুন পরিস্থিতিতে এই খাতের উন্নতি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে তা আমরা প্রত্যাশা করি।’
পরে আট দফা দাবি সংবলিত বিআরটিএ চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা। চেয়ারম্যানের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সিলেট বিআরটিএ উপ পরিচালক (রাজস্ব)।
স্মারকলিপি ৮দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযান নীতিমালা চুড়ান্ত ও দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা, ২. নীতিমালার আলোকে ব্যাটারি রিক্সা ও ইজিবাইকের নিবন্ধন, লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদান, ৩ কারিগরি ত্রুটি সংশোধন করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের আধুনিকায়ন, ৪. চার্জিং স্টেশন স্থাপন করে বিদ্যুৎ চুরি ও অপচয় বন্ধ করে ও রাষ্ট্রীয় কোষাগার সমৃদ্ধ করা, ৫. চালকসহ সংশ্লিষ্টদের ট্রাফিক সংক্রান্ত পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সড়কের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, ৬. চাঁদাবাজি, হয়রানি, অবৈধ রেকারিং ও ডাম্পিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে চালকদেরকে স্বস্তি দেওয়া। সিলেট নগরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের রেকার বিল পূর্বের মতো ৫শত টাকা নির্ধারণ করা, ৭. প্রতিটি সড়ক মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেইন তৈরি করে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া।
এএফ/০৮