ওসমানী বিমানবন্দর নামে নয়, কাজে পূর্ণাঙ্গ হবে: ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক


ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬
০৫:৫৬ অপরাহ্ন


আপডেট : ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬
০৫:৫৯ অপরাহ্ন



ওসমানী বিমানবন্দর নামে নয়, কাজে পূর্ণাঙ্গ হবে: ডা. শফিকুর রহমান


সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নামে নয়, বাস্তব অর্থেই পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘সিলেটকে আর বঞ্চিত রাখা হবে না।’

আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটায় সিলেট নগরের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না। আমরা নামে নয় কাজে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করব।’ সম্প্রতি ম্যানচেষ্টার টু সিলেট রুটের ফ্লাইট বন্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ইউকেতে যে সমস্ত বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন, তাদের প্রায় ৯০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাব। সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট আগে যেত-আসত, এখন সেটা বন্ধ করে রাখা হয়েছে কেন।’

তিনি বলেন, ‘সিলেটবাসীর জন্য সুপেয় পানি পাওয়াই এক আলাদিনের চেরাগের মতো। বসে বসে অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষা আসলেই ডুবে যায়, ভেসে যায় আবার শুকনা মৌসুমে নদীতে কোনো পানি থাকে না। এই সব সংকট সিলেটের নিত্যদিনের সঙ্গী।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ করে ইউকেতে যে সমস্ত বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন, তাদের প্রায় ৯০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাট। সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট আগে যেত-আসত, এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে কেন।


পূর্বের সংবাদ-

এই ভোট হবে বাংলাদেশ বদলে দেয়ার ভোট: ডা. শফিকুর রহমান


এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা কি চিংড়ি মাছ? চিংড়ি মাছ দৌড়াতে শুরু করলে শুধু পিছনের দিকে যায়। আমরা তো সিংহের তাবা মেলে সামনে আগাতে চাই।’  তিনি জানান, বন্ধ থাকা রুটগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুটও খোলা হবে।

নদী ও পরিবেশ সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলো মরে গেছে। সিলেটের নদীগুলোও মরে আছে। নদী রাগ করে কেন? তার হক দেওয়া হয় না। তার পেট ভরাট করে দেওয়া হয়েছে, দখল করা হয়েছে, গার্বেজ দিয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, নদী শাসন নয় নদী বান্ধব বাংলাদেশ হবে ইনশাআল্লাহ। সুরমা-কুশিয়ারা যেন শুধু বইয়ের পাতায় না থাকে, বাস্তবে যেন পাওয়া যায় সেই সুরমা-কুশিয়ারা বানানো হবে।

হাওরাঞ্চল, কৃষি ও মৎস্য খাতের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জের হাওর-বাওর এলাকা থেকে দেশের খাদ্যের একটা বড় অংশ আসে। অথচ এই এলাকাগুলো অবহেলিত। বাঁধ ভাঙে, ফসল নষ্ট হয়। যারা বাঁধের টাকা পেটের ভেতরে ঢুকায়—এই ইঁদুরগুলো আর ভাত কাটার সুযোগ পাবে না।

চা-বাগান শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এই মানুষগুলোর চেহারার দিকে তাকানো যায় না। নারী-পুরুষ সবাই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে। কিন্তু শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্যসেবা নেই। সন্তানরা অনাদরে বড় হয়। তারা এই দেশের নাগরিক তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে, সরকার নেবে ইনশাআল্লাহ।

জনসভা শেষে সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একবার আমাদের সুযোগ দিন। আপনাদের মালিক হব না। আপনাদের জীবন, সম্পদ আর ইজ্জতের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা চৌকিদারের কাজ করব। পাহারা দেব ইনশাআল্লাহ।


এএফ/০২