এসএসসিতে সিলেট বোর্ডে ৫ বছরের মধ্যে পাশ সর্বনিম্ন, বেড়েছে জিপিএ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক


আগস্ট ১০, ২০২৬
০৫:০৩ অপরাহ্ন


আপডেট : আগস্ট ১০, ২০২৬
০৫:০৭ অপরাহ্ন



এসএসসিতে সিলেট বোর্ডে ৫ বছরের মধ্যে পাশ সর্বনিম্ন, বেড়েছে জিপিএ-৫

-ফাইল ছবি


এবারের মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার পাশের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে। যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে আগের বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ কিছুটা বেড়েছে। 

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২২ সালে সিলেটে পাসের হার ছিলো ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৬ দশমিক ০৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৩ দশমিক ০৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ফলাফল বিশেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছর ধরে সিলেটে ধারাবাহিকভাবে কমছে পাসের হার।

পাসের হার কমা প্রসঙ্গে সিলেট বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, পরিবর্তিত সিলেবাস ও শিক্ষক সঙ্কটের কারণে পাসের হার কমেছে।

সারাদেশের মধ্যেও পাসের হারে পেছনের দিকে অবস্থান সিলেটের। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

তবে পাসের হার কমলেও এবার সিলেটে জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২টি। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪জন। আর ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৭ হাজার ৫৬৫ জন, ২০২৩ সালে ৫ হাজর ৪৫২ জন, ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৪৭১ জন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। জিপিএ-৫ ও পাশের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা। সিলেটে এবার ৯ প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৪২১ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। যা গত বছরের তুলনায় ১২ হাজার ৭৯৮ জন কম। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৫৩ হাজার ৮৯১ জন এবং ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ জন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে, পাশের হারে এগিয়ে সুনামগঞ্জ ও জিপিএ-৫ এ মৌলভীবাজার।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সিলেট জেলায়। এ জেলায় পরীক্ষার্থী ৩৫ হাজার ৩৩১ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১৪ হাজার ৩২১ জন এবং ছাত্রী ২১ হাজার ১০ জন। জেলার ৩৬৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ৯৪টি।

মৌলভীবাজারে পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ হাজার ৯১৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৬৩১ জন ও ছাত্রী ১২ হাজার ২৮২ জন। জেলার ১৯৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।

সুনামগঞ্জে পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ হাজার ৩৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৫১৫ জন এবং ছাত্রী ১০ হাজার ৮৬৮ জন। জেলার ২৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল ৪৫টি।

হবিগঞ্জে পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ হাজার ৭৯৪ জন। এরমধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৬৩ জন এবং ছাত্রী ৯ হাজার ৭৩১ জন। জেলার ১৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৪৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।

এবার পানের হারে এগিয়ে মেয়েরা। মেয়েরা ৫৬.৭৮ শতাংশ ও ছেলেরা ৫৬.১২ শতাংশ পাস করেছে।

এছাড়া বিভাগভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০.৩২% , জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩,৬০৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৬৪.০৩%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৮ জন এবং মানবিকে পাসের হার ৪৮.১৬%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০ জন।


এএফ/০১