১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ হতে পারত: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক


জুন ১৪, ২০২৬
০৯:৫৯ অপরাহ্ন


আপডেট : জুন ১৪, ২০২৬
০৯:৫৯ অপরাহ্ন



১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ হতে পারত: শফিকুর রহমান


সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা যদি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যাত করতাম। আমাদের আশঙ্কা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতো।’

আজ রবিবার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমীর নির্বাচনের ফলাফলে কারসাজির অভিযোগ এনে বলেন, ‘আমরা যদি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যাত করতাম। আমাদের আশঙ্কা ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতো। এটা এ জাতিকে কোথায় নিয়ে যেতো আল্লাহতালাই ভালো জানেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটা আমাদের আশঙ্কা, এটা নাও হতে পারতো। দেশপ্রেমিক মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে যেখানেই সন্দেহ সেখানে এড়িয়ে চলা। সন্দেহের জায়গা খুব তীব্র ছিল।’

আমরা সাড়ে ১৭ বছর একটা কঠিন অবস্থা অতিক্রম করেছি। সাড়ে ১৭ বছর পর এবার একটা অর্থবহ নির্বাচন জাতি আশা করেছিলো। আমার ব্যক্তিগত মত, নির্বাচন সুন্দর হয়েছে। কিন্তু ফলাফল সুন্দর হয়নি। ফলাফলে অনেককিছু করা হয়েছে। যেটা এখন অনেকে স্বীকার করছেন। আমরা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। ফলাফল মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিলো। আর যেসব দেশে একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে তারা আর এর থেকে বের হতে পারেনি।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ডা. শফিক বলেন, বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটা ইন্টারপোলের কৃতিত্ব৷তার বিরুদ্ধে রেড এলার্টও বর্তমান সরকার জারি করে নাই। তবে বেনজীর আটক বাংলাদেশের একটা অর্জন। কিন্তু তিনি দুবাইর কারাগারে থাকবেন নাকি দেশে আনা হবে তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।

সীমান্তে উত্তেজনা প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনা চলছে। সীমান্তের ওপার থেকে এমনসব উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলা হচ্ছে, আমরা যদি দেশ ও জাতীয় হিসেবে প্রত্যেকটি কথার উত্তর দিতে যাই তাহলে প্রতিদিন একবার যুদ্ধ বেঁধে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘এটা কোন উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে তা বুঝতে এদেশের মানুষদের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না।’

এসময় তিনি বলেন, ‘দুই দুইবার স্বাধীন হলাম। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেলাম কী। সবাই বলছে স্বাধীনতার সুফল এখনও ঘরে উঠে নাই।’ এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ি করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সুফল ঘরে উঠাবে-টা কে? উঠাবে এদেশের রাজনৈতিক দলগুলো। যারা আমরা কথা বলি কোনো না পর্যায়ে দেশ শাসন আমরাই করেছি, দেশ পরিচালনা আমরাই করেছি। তাহলে আমরা কাকে দোষ দিতে চাচ্ছি। আমরা আমাদের দোষ দেখি না কেনো? নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজের দুর্বলতার দূর করার চেষ্টা করছি না। এটাই বিশাল প্রশ্ন।’ 

সংসদে জনগণকে দেওয়া ওয়াদা রক্ষা করে যাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদের ভিতরে চরমপন্থা অবলম্বন করবো না এবং অধমপন্থা অবলম্বন করবো না। আমাদের অবস্থা মধ্যমপন্থা, যৌক্তিক। দেশ এবং জাতির স্বার্থে যা প্রয়োজন। আমরা বিরোধী দল হিসেবে জাতিকে দেয়া কথা মেনে চলার চেষ্টা করছি। আমরা এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না।’

সংসদে নিজেদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা ও গরমপন্থা অবলম্বন করবে না, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে৷সংসদকে আর আমরা মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না।

তিনি বলেন, আজকেও একজন দাঁড়ালেন, ‘আল্লাহর বিধার পর্দার বিরুদ্ধে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেন।’ 

সরকারি দল ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জাতির সাথে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে দাবি করে জামায়াত আমীর বলেন, জনগণের রায় ব্যর্থ হলে টেকসই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে লড়াই চলবে। তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ ভাল থাকবে।‘ তিনি বলেন, নির্বাচন ভালো হলেই শাসক ভাল হবে এর প্রমাণ নেই।’

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাজেটে অনেককিছু ওয়েভার এসেছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মোটরসাইকেলের ওপর সরকার কর বসাবে কি না সেটা জানতে চান তিনি। দুর্নীতি বন্ধ আর দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না এই দু'টি বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ নাই বাজেটে৷

তিনি বলেন, এদেশে এক কোটি মানুষ ট্যাক্স দেওয়ার মত আছেন, তাহলে শুধু ৩৪ লাখ কেন?

পুশইন সম্পর্কে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বিজিবির সহযোগী হয়ে

গাইবান্ধায় রামমন্দির নির্মাণ কাজ স্থগিত করা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উসকানির সৃষ্টি হয় এমন কোন কাজ আমরা মেনে নেবো না। সেটা যদি মুসলমানরা করে, তাও মেনে নেবো না। অন্য ধর্মের কেউ করলেও মেনে নেবো না। এ দেশ আমাদের সবার। যেটা করলে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা হয় সেটা করতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।


এএফ/০৪