শাহজালাল মাজারে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ টাকা, স্বর্ণ, রোপা

নিজস্ব প্রতিবেদক


জুলাই ১১, ২০২৬
০৭:১২ অপরাহ্ন


আপডেট : জুলাই ১১, ২০২৬
০৭:১৪ অপরাহ্ন



শাহজালাল মাজারে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ টাকা, স্বর্ণ, রোপা


সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজারের দানবাক্স থেকে দ্বিতীয় বারের মতো গণনা করে ৪৭ লাখ ১০ হাজার `১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ, রুপা এবং স্বর্ণ সদৃশ ধাতব বস্তু মিলেছে। এসব দান এসেছে ১৯ দিনে।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, দানবাক্সে দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১০৫ রিয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ২০ ইউরো, ওমানের ১ দিনার ৪৫০ পয়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়া, পাকিস্তানের ৬০ রুপি এবং সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার।


পূর্বের সংবাদ-

শাহজালাল মাজারের দানের টাকা গণনা চলছে


এছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, স্বর্ণ সদৃশ ১০ গ্রাম ধাতব বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপাও পাওয়া গেছে।

মাজার কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সর্বশেষ দানবাক্স খোলার পর থেকে এবার পর্যন্ত মাজারে একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল দান করা হয়েছে। গরুটি নজরানা হিসেবে জবাই করে রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। ছাগলের মধ্যে ৪০টি রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২৫টি বিক্রি করে ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে।

এর আগে গত ২২ জুন প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়। ওই দিন ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি বিশেষ হিসাবে জমা রাখা হয়।

এর ১৯ দিন পর শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

মাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনার এই উদ্যোগের মাধ্যমে দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। দানের অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, মূল্যবান ধাতু এবং অন্যান্য নজরানাও এখন থেকে নিয়মিত হিসাবের আওতায় আনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে, গত ২২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় মাত্র ৪ দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছিল। প্রথমবার ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য বেশি থাকলেও, এবার ১৯ দিনের মাথায় সংগৃহীত ৪ বস্তা টাকার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ১০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট নোটের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।


এএফ/০২