নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
০৬:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
০৬:৫৬ অপরাহ্ন
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন তারা। দাবি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ ফয়সল ও তানভীর মাহমুদ।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় তাদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা, একাডেমিক পরিবেশ ও পেশাগত মানোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষায় বিদ্যমান দ্বৈত প্রশাসন ও দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করাই তাদের মূল দাবি। শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ আন্দোলন, আমরণ অনশন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পর ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা, ক্যাম্পাস পরিদর্শন এবং বিভিন্ন মতামতের ভিত্তিতে কমিটি একটি সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ওই সুপারিশ নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সভায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, সাস্ট’ বা আইইটি সাস্ট হিসেবে গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনো সেই সিদ্ধান্তের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে সম্প্রতি কলেজের একটি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের একাডেমিক ও গবেষণা পটভূমি ওই পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানান, এর প্রতিবাদে গত রবিবার তারা ক্যাম্পাসে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানরত শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তানভীর মাহমুদ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় শিক্ষকদের প্রশাসনিক ভবন থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছেন।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। তাদের কেউ লাইব্রেরিতে, কেউ গেস্ট হাউসে আছেন।
তানভীর মাহমুদ আরো বলেন, প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। গত ১৬-১৭ বছরে তারা নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলেও তাদের সেই অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘আমাদের এখানে সান্ধ্যকালীন প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করা একজনকে এনে বিভাগীয় প্রধান করা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে।’
এর আগে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে সোমবার শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ভবিষ্যতে কলেজটিকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। তবে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে আগে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে কলেজটিকে মুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ইনস্টিটিউট কাঠামোয় নেওয়ার দাবি তাদের।
শিক্ষার্থীরা বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। আন্দোলন চলাকালে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রশাসনিক রদবদল বা সংশ্লিষ্ট আদেশ দেওয়া হলেও তা মেনে নেবেন না বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাঈদা পারভীন বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেছেন। তবে কোনো সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন, সেটি মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
এএফ/০৩