নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবর ৩১, ২০২৬
০৭:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট : অক্টোবর ৩১, ২০২৬
০৭:৪৫ অপরাহ্ন
-ফাইল ছবি
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় এবার সিলেট শিক্ষাবোর্ডে বড় বিপর্যয় নেমেছে। এ বছর বোর্ডে পাশের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৫ সালে বোর্ডে পাশের হার ছিল ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। এরপর বিগত ২০ বছরে পাশের হারে উত্থান-পতন হলেও তা ৫০ শতাংশে নামেনি। গত বছর পাশের হার ছিল ৫১ দশমকি ৮৬ শতাংশ। কমেছে জিপিএ-৫। এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন। যা গত বছরের তুলনায় ৩৯৮টি কম।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা বেড়েছে। ২০১০ সালে পাশের হার ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশে পৌঁছায়। ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা করোনা মহামারি শুরুর আগে সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাসের হার কমতে থাকে। ২০১৩ সালে ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে নেমে ২০১৯ সালে দাঁড়ায় ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশে।
করোনা অতিমারির সময় পরীক্ষাপদ্ধতি ও মূল্যায়নে পরিবর্তন আসে। ২০২০ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ১০০ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতেও সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও বিশেষ মূল্যায়নের প্রভাবে পাসের হার তুলনামূলক বেশি ছিল। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৮০ থেকে ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশের মধ্যে ছিল। তবে ২০২৫ সালে ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসে। ওই বছর পাসের হার নেমে দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশে। এবার তা আরও কমে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ হয়েছে। ফলে গত দুই বছরের ফলাফলে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের এএচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন। এর আগের বছর ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬০২ জন। যা গত বছরের তুলনায় ৩৯৮টি কম।
পাশের হারে মেয়েরা এগিয়ে: এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ৭১ হাজার ৮৯৩ জন অংশ নেন। যার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের পাশের হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার ২৮ হাজার ৯৩৫ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নেন। তারমধ্যে ১৪ হাজার ৯৬ জন পাস করেছেন। পাশের হার ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে ৪২ হাজার ৯৫৮ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২২ হাজার ৫০১ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
ফলাফলে এগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে: বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ৬৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ। এ বিভাগের ১৪ হাজার ৩৫৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯ হাজার ৮৩৮ জন। এরপর ৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। এ বিভাগে ৮ হাজার ১৮১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৩ হাজার ৯১১ জন এবং ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকা মানবিক বিভাগে ৪৯ হাজার ৩৫৯ জনের মধ্যে পাস ২২ হাজার ৮৪৮ জন।
বিপর্যয়ের কারণ: এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডে ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ভূমিকাকে দায়ি করেছেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন।
ফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘এবার ২১ বছরের মধ্যে ফলাফলে ধস নেমেছে আপনারা যেটা বলছেন, আসলে আমি ওইভাবে বিশ্লেষণ করব না, আমি ধসের কথা বলব না। আমরা এসএসসিতেও দেখেছি, আমি পরীক্সার হলে বসলেই পরীক্ষায় পাস করব, আমাদের রেজাল্ট কিন্তু ওইভাবে আর হবে না। আমাদের বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন মানদণ্ড কিন্তু এখানে নির্ধারণ হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘স্কুল-কলেজে আমাদের নানাভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনা এসেছে, বাচ্চাদের পড়াশোনা করতে হবে। অন্য বোর্ডের রেজাল্টের তুলনায় আমাদের সিলেট শিক্ষা বোর্ডের রেজাল্ট আলহামদুলিল্লাহ অনেক ইমপ্রুভড। গতবার কিন্তু অভিন্ন প্রশ্ন ছিল না। এবার অভিন্ন প্রশ্ন।’
পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বিলকিস ইয়াছমীন বলেন, ‘বাচ্চারাও পড়াশোনা করছে, বাচ্চারাও টেবিলমুখী হয়েছে, পড়ামুখী হয়েছে, কারণ মন্ত্রী মহোদয় ঘোষণা দিয়েছেন পড়তে হবে। সেই মোতাবেক আমাদের পরীক্ষক, নিরীক্ষক এবং হেড এক্সামিনার প্রত্যেকের যৌথ প্রচেষ্টাতেই কিন্তু একটা বাচ্চার রেজাল্ট হয়। আমরা বোর্ড কিন্তু কিছু জানি না, হেড এক্সামিনার, এক্সামিনার, নিরীক্ষক তিনজনের যৌথ কাজের মাধ্যমে কিন্তু একটা বাচ্চার রেজাল্ট প্রস্তুত হয়।’
তিনি বলেন, ‘এবার আমাদের পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা অনিয়মিতরাই বেশি ছিল, অনেক বেশি অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল। আমাদের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের কারণে রেজাল্টটা কিছুটা ডাউন হয়েছে। এবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ১৯ হাজার ৭৬০ জন ছিল, পাস করেছে ৮ হাজার ৬৫১ জন।’
এএফ/০১