দিরাই প্রতিনিধি
মে ২০, ২০২০
০৬:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট : মে ২০, ২০২০
০৭:০৪ অপরাহ্ন
পুড়ে যাওয়া ঘর
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের শিষ্য বাউল রণেশ ঠাকুরের উজান ধলের বাড়ির বাউল গানের আসরের ঘর পোড়ানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে বাউল রণেশ ঠাকুর বাদী হয়ে দিরাই থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাউলের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি নির্মাণ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
গত রবিবার (১৭ মে) রাতে বাউল রণেশ ঠাকুরের গানের আসরের ঘরটি আগুনে পুড়ে যায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে তিনি দিরাই থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরই পুলিশ ফরহাদ মিয়া (২৫) নামের একজনকে আটক করে। তিনি উজান ধল গ্রামের এলাম উদ্দিনের ছেলে।
গ্রামের অনেকেই বলছেন, দুষ্কৃতিকারীরা এই আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় দেশে-বিদেশে প্রতিবাদ হচ্ছে।
বাউল রণেশ ঠাকুর জানান, তাঁর গানের আসর ঘরটি টিনের বেড়া ও টিনের চালার তৈরি ছিল। বাউল ভক্তদের নিয়ে এখানে বসত গানের আসর। করোনার দুর্যোগের কারনে বেশ কিছুদিন যাবত ঘরে কেউ থাকত না। ঘরে দোতরাসহ কিছু বাদ্যযন্ত্র ও গানের বইপত্র ছিল। সব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
তিনি জানান, গত রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নিকট আত্মীয় বড় ভাইয়ের স্ত্রীর চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন আগুনে জ্বলছে ঘরটি। প্রতিবেশীদের একান্ত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘরের পাশের আম গাছ, কাঁঠাল গাছসহ কয়েকটি ফসলী গাছেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রণেশ ঠাকুর বলেন, আমার কোনো শত্রু নেই। কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে আমি জানি না। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। যদি কেউ আগুন লাগিয়ে থাকে তাহলে সেটা পুলিশ বের করবে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম জানান, রণেশ ঠাকুর নিজে বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মামলা করার পর পুলিশ গ্রামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
জেলা প্রশাসক মো. আবদুল আহাদ বলেন, আমরা বাউলের পাশে আছি। সবসময় খোঁজখবর নিচ্ছি। দিরাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার তাঁকে নগদ ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমরা তাঁর ঘরটি নির্মাণ করে দেব।
এএ/আরআর-০১