ফেঞ্চুগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তন্ময়ের লাশ দেশে পৌঁছবে আজ

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি


আগস্ট ২৩, ২০২০
০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন


আপডেট : আগস্ট ২৩, ২০২০
০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন



ফেঞ্চুগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তন্ময়ের লাশ দেশে পৌঁছবে আজ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের  মেধাবী ছাত্র কামনাশীষ চন্দ তন্ময়'র মরদেহ বাংলাদেশে আসছে আজ রবিবার (২৩ আগস্ট)। 

প্রায় ৪ মাস অপেক্ষার পর টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ভোর ৫ টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় তন্ময়ের মরদেহ। মাল্টায় বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে তন্ময়ের মরদেহ আসছে তার জন্মস্হানে। তাকে নিয়ে আসতে ইতোমধ্যে তার বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় রয়েছেন।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তন্ময়ের জেষ্ঠ্য চাচা জিতেন কুমার চন্দ। 

তন্ময়ের স্বপ্ন ছিল উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে নিজের জীবনকে নতুন করে সাজানোর! ভালো একটি চাকরি, পরিবারের মুখে হাসি, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আর সেই স্বপ্নই সাগরে তলিয়ে যায় ফেঞ্চুগঞ্জের মেধাবী ছাত্র কামনাশীষ চন্দ তন্ময়'র। ইউরোপের দেশ মাল্টার ম্যালিহা শহরের করাল লেগুন পর্যটন কেন্দ্র থেকে সাগরে সাঁতার কাটতে গিয়ে তলিয়ে যায় তন্ময়'র স্বপ্ন। কামনাশীষ চন্দ তন্ময়'র আরেক নাম ছিল শান্ত, পরিবারের কাছে 'শান্ত' নামটিই ছিল অতি আদরের। 

এ ব্যাপারে তন্ময়ের জেষ্ঠ্য চাচা জিতেন কুমার চন্দ জানান, মেধাবী ছাত্র কামনাশীষ চন্দ তন্ময় এ বছরের ২ জানুয়ারি স্টুডেন্ট ভিসায় ম্যানেজমেন্ট এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর জন্য পাড়ি জমায় ভূমধ্যসাগরের বিশাল বুকে ক্ষুদ্র একটি দেশ মাল্টায় লেখাপড়া ও চলছিল যথারীতি। 

ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারে জে. ওসমানি সড়কে অবস্থিত ব্যবসায়িক  প্রতিষ্ঠান বইঘর ও সুধা প্রিন্টিং প্রেস'র অন্যতম পরিচালক  সদর ইউনিয়নের রাজনপুর গ্রামের কৃপেশ রঞ্জন চন্দ (তপন)'র জেষ্ঠ্য ছেলে কামনাশীষ চন্দ তন্ময়।

তবে বিধিবাম, ৪ মাসের শেষ দিনে অর্থাৎ ২ মে শনিবার মাল্টা সময় বিকেল সাড়ে ৪ টায় মাল্টার ম্যালিহা শহরের করাল লেগুন পর্যটন কেন্দ্র সমুদ্র সৈকতে বন্ধুদের সাথে সাঁতার কাটতে যেয়ে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে তলিয়ে যায় তন্ময়। পরদিন ৩ মে রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০ টায় খবর আসে শান্ত সাগরে নিখোঁজ রয়েছে! তবে মাল্টা সরকারের  উপকূলীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধারের চেষ্ঠা চালিয়ে অবশেষে বিশাল সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেন শান্ত'র মরদেহ। 

জিতেন কুমার চন্দ আরো জানান, মাল্টায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দরা তন্ময়ের  মরদেহ দেশে পাঠাতে তাদের  ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। 

একদিকে পুত্র হারানোর শোক আর অন্যদিকে অপেক্ষার প্রহর ছিল তন্ময়ের পরিবারের।  অবশেষে  মরদেহ দেশে আসার খবরে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তাঁর পরিবারে। শেষ বারের মতো একবার দেখবেন, নিজ হাতে তাদের সন্তানকে সৎকার করতে পারবেন এ জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন তাঁরা।  

এসএ/বিএ-০৫