জামালগঞ্জে দুই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-স্বজনকে নির্যাতন

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি


সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০
০৭:১২ অপরাহ্ন


আপডেট : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০
০৭:১২ অপরাহ্ন



জামালগঞ্জে দুই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-স্বজনকে নির্যাতন

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে প্রয়াত দুই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তানকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানিসহ হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জামালগঞ্জ থানা ও জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাচনা বাজার ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তারাচান সরকারের স্ত্রী শ্যামলা দাস ও জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের কালীপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা সোনাহর মিয়ার পুত্রবধূ মোছা. ফুলমালা বেগম মামলা দু'টি দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে দেলোয়ার হোসেন নামের ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জামালগঞ্জ থানার পুলিশ।

ফুলমালা বেগমের দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় অভিযোগকারী ফুলমালা বেগমের মা অসুস্থ থাকায় তার শাশুড়ি হেলেনা বেগম, স্বামী মো. লিটন মিয়ার দুই বোন জেসমিন বেগম ও মোছা. ইয়াছমিনকে নিয়ে তিনি জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গজারিয়া হাঁটিতে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে নদী তীরবর্তী খেয়াঘাটে পৌঁছামাত্র বিবাদী জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের লম্বাবাঁক গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে সাইদুর মিয়া (৩৫), আমাল উল্লাহর ছেলে কালা মিয়া (৩২), মৃত হাসিম মিয়ার ছেলে দিলোয়ার হোসেন (৩০) ও মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৪০) মদ্যপ অবস্থায় বাদীসহ অন্যদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাদী এবং বাদীর শাশুড়ি হেলেনা বেগম ও ননদ জেসমিন বেগমকে জোরপূর্বক মাটিতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় তারা। তখন নারীদের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে বিবাদী দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জামালগঞ্জ থানার পুলিশ।

অপরদিকে সুনামগঞ্জ জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়েরকৃত আরেকটি মামলা সূত্রে জানা যায়, মৃত মুক্তিযোদ্ধা তারাচান সরকারের স্ত্রী শ্যামলা দাস স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোরকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। বাদী শ্যামলা দাস অসহায় হওয়ায় তার গ্রামের বিবাদী আবু তালেবের ছেলে আবু তাহের, কবিরঞ্জন দাসের ছেলে কংকন দাস, সুভাস দাসের ছেলে রূপায়ন দাস, মৃত কোকিল চাঁদ দাসের ছেলে মঞ্জু দাস, মৃত বীরেন্দ্র দাসের ছেলে বিরাজ দাস, মৃত কোকিল চন্দ্র দাসের ছেলে মনোরঞ্জন দাস ও জ্যোতির্ময় তালুকদারের ছেলে ঝিনুক তালুকদার প্রায় সময়ই অশালীন আচরণ করলে তিনি তা গ্রামবাসীকে জানান এবং এতে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়। একপর্যায়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৩টায় চার বিবাদী বাদীর ঘরে ঢো। এ সময় বাদী শ্যামলা দাস চিৎকার করতে চাইলে আবু তাহের, রূপায়ন দাস, কংকন দাস ও মঞ্জু দাস তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে কিল-ঘুষি মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার শ্লীলতাহানি ঘটায়। এরপর আগেরদিন উত্তোলিত স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। যাওয়ার সময় বিবাদীরা আইনের আশ্রয় নিলে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেশছাড়া করবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের প্রাণনাশের হুমকিতে তিনি বাধ্য হয়ে জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ ফুলমালা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, 'মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১ জনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।'

 

বিআর/আরআর-০৭