মাস্কের ব্যবহার বাড়ছে, বাড়ছে দামও

নিজস্ব প্রতিবেদক


ডিসেম্বর ০২, ২০২০
১২:১২ পূর্বাহ্ন


আপডেট : ডিসেম্বর ০২, ২০২০
১২:১২ পূর্বাহ্ন



মাস্কের ব্যবহার বাড়ছে, বাড়ছে দামও

শীতে আবারও করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ বাড়তে পারে বলে অভিমত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। তাই করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। মাস্ক ব্যবহার না করায় অনেককে জরিমানা করছে প্রশাসন। এর ফলে সিলেট নগরে মাস্কের ব্যবহার বাড়ছে। ব্যবহার বাড়ায় মাস্কের দামও বাড়াচ্ছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।  

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে সবার জন্য মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রহণ করা হয়েছে ‘নো-মাস্ক নো-সার্ভিস’। মানুষকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে বাধ্য করতে মাঠপর্যায়েও নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাস্ক না পরলে করা হচ্ছে জরিমানাও। জরিমানা এড়াতে নগরে বাড়ছে মাস্কের ব্যবহার। নগরের আদালত প্রাঙ্গণ, বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়, ব্যাংক-বিমাতে গিয়ে দেখা যায় সেবা গ্রহীতারা অনেকেই মাস্ক পরেছেন। কিন্তু কার্যালয় থেকে বের হয়ে অনেকে মাস্ক খুলে ফেলেন। 

নগরের বন্দরবাজার এলাকায় কোর্ট প্রাঙ্গণে আসা রফিক আলী বলেন, ‘মাস্ক ব্যবহার করা খুবই বিরক্তিকর। কিন্তু মাস্ক ছাড়া এখন অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই মাস্ক পরছি।’ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মুহিব মিয়া সিলেট মিররকে বলেন, ‘মাস্ক সব সময় পকেটেই থাকে। মাস্ক না থাকলে অনেক সময় পুলিশ গাড়ি আটকায়। তাই সামনে পুলিশ দেখলেই মুখে মাস্ক লাগাই। এত দীর্ঘসময় মাস্ক পরে থাকা অসম্ভব।’

করোনাভারাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন সিলেট করোনা আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. জন্মেজয় দত্ত। তিনি বলেন, ‘শীতে বিভিন্ন ভাইরাস সক্রিয় থাকে। এ সময় শরীর গরম রাখতে আমাদের অনেক বেশি শক্তি ক্ষয় হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তাই করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে আমাদের অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।’

এদিকে, বাজারে মাস্কের চাহিদা বাড়ায় সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। মাস্কের দাম আগের চেয়ে দ্বিগুণ দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। এক সময়কার আমদানিনির্ভর মাস্ক এখন দেশের ব্যবসায়ীরাই তৈরি করছেন। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক সার্জিক্যাল মাস্কসহ অন্যান্য মাস্ক দেশেই তৈরি হচ্ছে এবং সরাসরি অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে। নগরের চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, মেডিকেল রোড, মীরবক্সটুলা, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল রোডসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায় বাজারে মাস্কের কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। এছাড়া রাস্তায়, বিভিন্ন হাসপাতাল, সরকারি কার্যালয়ের সামনে মাস্ক বিক্রি করছেন ভ্রাম্যমাণ হকাররা। বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকায়। অথচ কয়েকদিন আগেও ১০ টাকায় পাওয়া গেছে ৩-৪টি মাস্ক। আগে ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাপড়ের মাস্কের দামও এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কেএন-৯৫ মাস্কের দাম ৩০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। কিছুদিন আগে আগে ৫০ পিসের সার্জিক্যাল মস্কে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। 

নগরের বন্দরবাজার এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভ্রাম্যমাণ মাস্ক বিক্রেতা সুরুজ হোসেন বলেন, ‘সরকার মাস্ক পরার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তাই মাস্কের চাহিদা পূর্বের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। চাহিদা বাড়ার কারণে মাস্কের দামও বেড়েছে। আগে ১০ টাকায় আমরা ৩-৪ টা মাস্ক বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন ১০ টাকায় ১-২ টা মাস্ক বিক্রি করতে হচ্ছে।’

নগরের চৌহাট্টা এলাকার মেডিসাইন্স ফার্মেসির বিক্রেতা রুবেল বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় আমাদেরকে বেশি দামে মাস্ক বিক্রি করতে হচ্ছে।’ দেশে পর্যাপ্ত মাস্ক উৎপাদনের পরেও কেন পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে তা বোধগম্য নয় বলেও জানান তিনি। 

মাস্ক কিনতে আসা ক্রেতাদের দাবি, করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে কেউ যেন অবৈধ সুযোগ গ্রহণ না করতে পারে এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। সিলেট জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. মেজবাহ উদ্দিন সিলেট মিররকে বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় জনসাধারণকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে আমাদের মোবাইল কোর্ট অব্যাহত রয়েছে।’

এনএইচ/বিএ-০১