ছাতকে ছেলে হত্যার মামলায় আপস না করায় খুন হলেন বাবাও

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি


অক্টোবর ১৬, ২০২১
১২:১৯ পূর্বাহ্ন


আপডেট : অক্টোবর ১৬, ২০২১
১২:২১ পূর্বাহ্ন



ছাতকে ছেলে হত্যার মামলায় আপস না করায় খুন হলেন বাবাও

সুনামগঞ্জের ছাতকে ছেলে হত্যার ঘটনা আপস না করায় এবার মামলার বাদী বাবাকেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের বনগাও গ্রামের বাতির আলীর কিশোর পুত্র হেলাল উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন।

এ ঘটনায় বাবা বাতির আলী ২১ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। এবার অসহায় বাবাকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহষ্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান বাতির আলী।

নিহতের পরিবারে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের বনগাও গ্রামের বাতির আলীর সঙ্গে একই গ্রামের মাওলানা সিরাজুল ইসলামের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে সিরাজুল ইসলামের লোকজন একাধিকবার বাতির আলীর পরিবারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এই জেরে ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর বাতির আলীর কিশোরপুত্র হেলাল উদ্দিনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তারা। ওইদিন সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় হেলাল।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাতির আলী বাদী হয়ে ২১ জনকে আসামি করে ছাতক থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রভাবশালী মাওলানা সিরাজুল ইসলামের লোকজন আপস করতে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। কিন্তু বাতির আলী পুত্র হত্যার বিচার আইনের মাধ্যমেই চেয়েছিলেন। তাই তিনি বারবার আপসের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে মাওলানা সিরাজুল ইসলামের লোকজন।

গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইছামতি বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাতির আলীকে (৬০) প্রতিপক্ষ সিরাজুল ইসলাম ও তার লোকজন লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিটায়। হামলাকারীরা বাতির আলীর দুই পা ও হাত ভেঙে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যারাতে মারা যান তিনি। শুক্রবার তার ময়না তদন্ত শেষে দাফন করেন স্বজনরা।

নিহত বাতির আলীর ছেলে কাচা মিয়া বলেন, আমার ভাইকে ৬ বছর আগে হত্যা করেছিল সিরাজের লোকজন। তারা বারবার মামলাটি আপস করার চাপ দিচ্ছিল বাবাকে। কিন্তু বাবা তাদের আপস প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে সিরাজুল ইসলামের লোকজন আমার ভাইয়ের মতো বাবাকেও নৃশংসভাবে খুন করেছে। আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমরা খুনীদের বিচার চাই।

বনগাও গ্রামের অভিযুক্ত মাওলানা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। 

ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন, আমরা শুনেছি কয়েকদিন আগে আহত হয়ে বাতির আলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যারাতে তিনি মারা গেছেন। কেন মারা গেছেন জানি না। আমরা কোন অভিযোগও পাইনি। তবে এলাকায় পুলিশ পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

এসএস/আরসি-০১