কবিতা দাস
মার্চ ০৮, ২০২২
০২:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট : মার্চ ০৮, ২০২২
০২:১৭ অপরাহ্ন
আজ বিশ্ব নারী দিবসে নারী বন্দনায় অনেকেই সম্মানিত করছেন নারীদের, দেখে ভালো লাগছে। বিশেষ করে আমরা নারীরা পুরুষদেরকে নারী বন্দনা করতে দেখলে খুবই পুলকিত হই। কারণ... পরে বলছি।
ফেইসবুকে ঢুকলেই দেখা যায় যত কৌতুক বা হাস্য রসাত্মক পোস্ট আছে তার অধিকাংশই নারীর স্বভাব নিয়ে। কেউ কেউ আবার এই স্বভাবকে নারীর চরিত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যস্ত। স্বভাব এবং চরিত্রের পার্থক্য না জানার কারণে এই বিড়ম্বনা। যারা শুধু মাত্র বিনোদন নেওয়া বা দেওয়ার জন্য নারীর এই স্বভাব নিয়ে কৌতুক করেন, তারা জানেন না নারীর এই স্বভাব গুলো ঈশ্বর প্রদত্ত। যদি নারীর ভুলে যাবার স্বভাব না থাকতো তাহলে ভুলতে পারতো না তার না পাওয়ার অনেক বেদনা। ভুলতে পারতো না তার জীবনে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটনা। ভুলে থাকতে পারতোনা তার মা-বাবাসহ অতি আদরের সম্পর্কগুলি। যদি সয়ে নেওয়ার ক্ষমতা না থাকতো তাহলে সহ্য করতে পারতো না প্রসব বেদনা। নারীর যদি কথায় কথায় ঝাড়– নিয়ে তেড়ে আসার স্বভাব না থাকতো তাহলে শুধুমাত্র ঝাড়ু পেটা করেই স্বামীকে তুলে দিতে পারতো না অন্য নারীর হাতে, নিজে করতে পারতো না সতীনের ঘর।
একজন মা ৫৭ ইউনিট ব্যথা সহ্য করেন প্রসবকালে। বলা হয় মানবদেহের দশটি হাড় একসঙ্গে ভেঙে গেলেও এত ব্যথা হয় না, এই মাকে নিয়েও করা হয় কৌতুক!! কেননা মা হলে নারী দেহের গড়ন ঠিক থাকে না। এই অজুহাতে অনেকে মায়ের মাথার উপর এনে ঠাঁই দেন সতীন নামের পরগাছার! তবুও সে ছেড়ে পালায় না, ভাবে মাথার উপর ছেঁড়া ছাতাটা এখনও আছে তো! আর এ কারণেই অল্পতে তুষ্ট হওয়ার স্বভাব নারীর!!
নারীর এতসব বাজে স্বভাবের পরেও দিনশেষে নীরবে চোখের জলে বালিশ ভেজানোর মত ভালো একটা স্বভাব আছে যাকে নারীর গুণ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। এই গুণের প্রশংসা প্রকাশ্যে করা যায় না, কেননা এটা প্রকাশ পেলে সকলে যে কারণ জানতে চাইবে!
বলেছিলাম পরে বলছি, এখনও যারা কারণ বুঝতে পারেননি তারা ওদের দলের এ আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি।
বছরে একদিন নারী বন্দনা না করে, নারীকে সমান অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নামার সুযোগ না দিয়ে সঙ্গে নিয়ে চলতে শিখুন। কথায় নয় কাজে প্রমাণ করুন আপনি নারীকে সম্মান করেন। সামনে এগিয়ে দিয়ে নিজেই ল্যাং মেরে মাটিতে ফেলে না দিয়ে পায়ে পা মিলিয়ে চলতে দিন, যথেষ্ট!!
জয় হোক নারী- পুরুষ সকলের!