নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ০৫, ২০২৫
০২:৩২ অপরাহ্ন
আপডেট : এপ্রিল ০৫, ২০২৫
১০:৩০ অপরাহ্ন
পায়ে আঘাত পেয়ে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
গত বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) নাহিদ ইসলাম সিলেট পৌঁছান বলে জানা গেছে। পরে তিনি সোবহানীঘাট এলাকার আল হারামাইন হাসপাতাল নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার ব্যক্তিগত সফরে স্ত্রীকে নিয়ে সিলেট আসেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ব্যক্তিগত সফর হওয়ায় দলের স্থানীয় নেতাদেরও বিষয়টি জানাননি তিনি। কিন্তু ঢাকায় বিমানে ওঠার আগ মুহূর্তে তাঁর পা মচকে যায়। হাড়ে স্ক্র্যাচ পড়ে যায়। ফলে বিমানে করে সিলেট পৌঁছতে পৌঁছতে তার পা ফুলে তীব্র ব্যথায় শুরু হয়।
এমনকি পা নাড়াতে পারছিলেন না তিনি। পরে সিলেটে থাকা দলের এক নেতা তাকে বিমানবন্দরে রিসিভ করেন। কিন্তু ঈদের ছুটি থাকায় তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা নিয়ে বিপাকে পড়েন ওই নেতা। তিনি কোনো ফিজিশিয়ানকে না পেয়ে সিলেটের এক অর্থোপেডিকস সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, নাহিদ ইসলামের গন্তব্য ছিল শ্রীমঙ্গল। সেখানে যাত্রাপথে ইবনে সিনা হাসপাতাল ও আল হারামাইন হসপিটাল থাকায় এই দুটির একটিতে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঈবনে সিনায় লোক সমাগম বেশি হওয়ায় আল হারামাইন হসপিটাল বেছে নেন এনসিপির এই নেতা। এরপর সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে তারা হাসপাতাল ছেড়ে শ্রীমঙ্গলের গন্তব্যে রওনা দেন।
এদিকে সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের আল হারামাইনে চিকিৎসা নেওয়ার খবর জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অনেকে এই হাসপাতালে তার চিকিৎসা নেওয়ার সঙ্গে বিদেশে অর্থপাচারে অভিযুক্ত সিলেটের ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমানের যোগসূত্র খোঁজারও চেষ্টা করেন।
তবে একজন রোগীর চিকিৎসা নেওয়া নিয়ে এ ধরনের কথা দুঃখ ও হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ।
তিনি মূল ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘নাহিদ ইসলাম সিলেটের শ্রীমঙ্গলে এসেছিলেন ব্যক্তিগত সফরে। কিন্তু বিমানে ওঠার আগে তার পা মচকে যায়। পরে এক্স-রে করে প্রতিবেদনে দেখা গেছে হাড়ে স্ক্র্যাচ পড়েছে।’
আল হারামাইনে চিকিৎসা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বিমানবন্দরে রিসিভ করার পর দেখি, তিনি পা নাড়াতে পারছেন না। ঈদের ছুটি থাকায় চিকিৎসকও পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অর্থোপেডিকসের সার্জন ডা. চৌধুরী ফয়জুর রব জুবায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি যাত্রাপথ জেনে নিয়ে ইবনে সিনা অথবা আল হারামাইনে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে লোক সমাগম এড়াতে তিনিই আল হারামাইনে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে তিনি প্লাস্টার করে চলাচলের উপযুক্ত করে দেন। আধ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে নাহিদ ইসলাম সড়কপথে স্ত্রীসহ শ্রীমঙ্গল রওনা হয়ে যান।’
এএফ/০২