নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ০৬, ২০২৬
০৩:৩৪ অপরাহ্ন
আপডেট : জানুয়ারি ০৬, ২০২৬
০৩:৩৪ অপরাহ্ন
সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি এহতেশাম হক। ছবি: সিলেট মিরর
দ্বৈত নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত কাগজপত্রের ঘাটতির অভিযোগে সিলেট–১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশাম হকের মনোনয়ন বাতিল করা হলেও একই পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রার্থী এম এ মালেকের মনোনয়ন শর্তসাপেক্ষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক ও দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে নির্বাচন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এহতেশাম হক।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এহতেশাম হক জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি অন্যান্য প্রার্থীর মতোই পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে রিটার্নিং অফিসার দ্বৈত নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য তাঁর মনোনয়ন স্থগিত করেন।
তিনি বলেন, যাচাই–বাছাইয়ের দিন ৩ জানুয়ারি তাঁর পক্ষে মনোনয়ন প্রস্তাবকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অনুলিপি জমা দেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেও ফোনে রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করেন যে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস ক্রিসমাস ও নববর্ষের ছুটির কারণে বন্ধ থাকায় এক দিনের মধ্যে আবেদন ‘গৃহীত হয়েছে’- এমন কোনো চিঠি সংগ্রহ করা বাস্তবসম্মত নয়। মনোনয়ন ফর্মেও এ ধরনের কাগজ দাখিলের বিষয়ে আগে কোনো উল্লেখ ছিল না বলে জানান তিনি।
এহতেশাম হকের অভিযোগ, এসব বিষয় লিখিতভাবে জানানো ও সদয় বিবেচনার আবেদন জানানো সত্ত্বেও ৪ জানুয়ারি তাঁর মনোনয়ন ‘প্রপার কাগজপত্র’ না থাকার অজুহাতে বাতিল করা হয়। অথচ একই দিনে সিলেট–৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ মালেকের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস বন্ধ থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়ন শর্তসাপেক্ষে গ্রহণ করা হয়।
“প্রশ্ন হলো, আমার ক্ষেত্রে কেন একই আইনের সমান প্রয়োগ করা হলো না,” বলেন এহতেশাম হক। তাঁর দাবি, আইনগত দিক থেকে তাঁর দাখিল করা কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রার্থীর কাগজের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই।
এই সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত ক্ষোভের বিষয় হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেন এনসিপির এই প্রার্থী। তিনি বলেন, 'নির্বাচন প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাতের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে।'
সংবাদ সম্মেলনে এহতেশাম হক আরও প্রশ্ন তোলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশন কেন একই রকম কঠোরতা দেখায় না। তিনি ফেনীতে বিএনপির এক প্রার্থীর মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্ব বিসর্জনের প্রমাণ ছাড়াই বৈধ ঘোষণার উদাহরণও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, 'এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।'
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি প্রশ্ন রাখেন, 'ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর প্রতি নতজানু আমলাতন্ত্র দিয়ে আদৌ কি একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।'
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান আফজাল, জেলা আহ্বায়ক মোহাম্মদ জুনেদ আহমদ, মহানগর সদস্য সচিব কিবরিয়া সারওয়ার ও জেলা সদস্য সচিব কামরুল আরিফ।
আরসি-০১