সিলেট মিরর ডেস্ক
মে ১৪, ২০২৬
০৫:০১ অপরাহ্ন
আপডেট : মে ১৪, ২০২৬
০৫:২৬ অপরাহ্ন
কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহ্বান
পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়—এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন।
আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এ সময় তিনি ঈদের আগে দুই জুমায় দেশের সব মসজিদের খতিব ও ইমামদের খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক দিকনির্দেশনামূলক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, কোরবানির চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে চামড়া শিল্পের বিকাশ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং এতিমখানা, মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। কিন্তু প্রতিবছর সামান্য অসচেতনতার কারণে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সব মসজিদের খতিব ও ইমামরা যেন খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করেন, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং সংশ্লিষ্টদের জন্য যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তা সফল করতে বিভাগীয় কমিশনারদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো নির্দেশনা দেন, বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। সিটি করপোরেশন প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে দেশব্যাপী মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনা মূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
চামড়া সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে বলেও সভায় জানানো হয়।
সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— কোরবানির ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে চামড়ায় লবণ প্রয়োগ, প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার, বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান। এ ছাড়া পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মাহবুবুর রহমান সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।’
জিসি / ০৩