সিলেট মিরর ডেস্ক
অক্টোবর ৩১, ২০২৬
০৮:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট : অক্টোবর ৩১, ২০২৬
০৮:৩৩ অপরাহ্ন
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের উপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে শেকলবন্দি করতেই দুজন সাংবাদিকের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে।’ তারা বলেছেন, ‘সিলেটের মানুষের সেবা পাওয়ার ন্যায্য দাবির প্রতি এটা চরম আঘাত। এই হামলা শুধু সাংবাদিকদের ওপর নয়, গোটা সিলেটবাসীর ওপরেই করা হয়েছে।’
ওসমানী হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের উপর হামলার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে গত ২৮ অক্টোবর হামলার শিকার হন সাংবাদিক রেজা রুবেল ও নিবেন্দু তালুকদার।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ ঘটনার প্রতিবাদে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সিলেটের সকল সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ নেন।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে ও জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তারা বলেন- এই প্রতিবাদ সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের নয়, বরং পুরো সিলেটবাসীকে জাগ্রত করার সমাবেশ। অতীতে ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের সময় সাংবাদিকরাই তাদের পাশে থেকে সংবাদ প্রচার করেছিলেন, যার প্রতিদান দেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করে। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে রোগীদের জিম্মি করার সংস্কৃতি চলতে পারে না। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন- অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অতীতে হাসপাতালের অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে। এই হামলা পুরো চিকিৎসক সমাজকে কলঙ্কিত করেছে। ওসমানী হাসপাতালে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও মাস্তানি বন্ধ করে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি অংশের মাধ্যমে রোগীদের স্বজন ও সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা এবং লাঠিসোটা নিয়ে পেটানোর ঘটনা নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। গত বুধবার দুই সাংবাদিককে নির্যাতনের ঘটনায় অবিলম্বে ওসমানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘কোনো আপসকামী সমাধান নয়, সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে শীঘ্রই বৈঠকে বসা হবে এবং সেখানেই পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) সিলেট-এর সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান রিপন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ূন কবির লিটন, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ হেলাল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমেদ রনি প্রমুখ।
সিলেটের সর্বস্তরের সাংবাদিক সমাবেশে সংহতি জানিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব এবং দক্ষিণ সুমরা ও বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাব ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র এর সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সিলেট কল্যাণ সংস্থা, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত ছিলেন- দৈনিক সমকালের ব্যুরো প্রধান মুকিত রহমানী, দৈনিক উত্তর পূর্বের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক ইউএনবি’র সিলেট প্রতিনিধি মোহাম্মদ মহসিন, চয়ন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, ইমজা’র সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সহ সাধারণ সম্পাদক রবি কিরণ সিংহ রাজেশ, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশকার আমিন রাব্বী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সজল ঘোষ, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র (বিএনজেসি)-এর সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিলকিস আক্তার সুমি, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কাওসার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রেজাউল হক ডালিম, তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ জামিল, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য নবীন সোহেল, রনজিৎ কুমার সিংহ, তুহিন আহমদ ও রাজীব রাসেল।
আরও উপস্থিত ছিলেন- অধ্যক্ষ মকসুদ আহমদ, সপ্তাহিক বাংলার বারুদ এর সম্পাদক বাবর হোসেন, সাংবাদিক নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, দেবাশীষ দেবু, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি ও আধুনিক কাগজের প্রকাশক সাঈদ চৌধুরী টিপু, ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, সাবেক সভাপতি মামুন হাসান, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হোসেন, ক্লাব সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, আজকের সিলেটের সম্পাদক রজত কান্তি চক্রবর্তী, আব্দুল কাইয়ুম উল্লাস, অনলাইন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু, সাংবাদিক দেবব্রত রায় দিপন, সিলেট কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের, দৈনিক কাজিরবাজার পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সোয়েব বাসিত, সাংবাদিক রাশেদুল হোসেন সুয়েব, পিংকু ধর, এনামুল কবীর, সাঈদ নোমান, চৌধুরী আমিরুল ইসলাম এহিয়া, নাবিল হোসেন, সাকিব আহমদ মিটু, সিন্টু রঞ্জন চন্দ, মো. আহসান হাবীব, মোজাম্মেল আহমেদ, লুৎফর রহমান, মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মাকসুদ হোসেন, মোখলেছুর রহমান, শামীম হোসেন সামী, আলমগীর আলম, কামরুল হাসান বুলবুল, মাকসুদুর রহমান নাহিদ, এস. এম. সুজন,বাপ্পা মৈত্র, রোমান আহমদ, জিকরুল ইসলাম, আতিকুর রহমান নগরী, মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, তারেক চৌধুরী রাহেল, কাইয়ুম আল রানি, আনোয়ার হোসেন, এম কে তুহিন, আহমদ আলী হিরন, মো. আব্দুর রাজ্জাক, আহমদ আল হাদী, মো. চমক আহমেদ, মো. আব্দুল মজিদ চৌধুরী, শাহ মিনশাদ আলম, সুব্রত দাস, পিয়াল আহমদ, সন্দীপন শুভ, মো. লোকমান হোসেন, আহমদ শিপন, জহিরুল ইসলাম সিপু, শহীদুল রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, সাকির আল মামুন, সমাজসেবী শাহজাহান মাস্টার, সাংবাদিক কামাল আহমদ, ফারহান ইসলাম রাজু, মাহফুজুর রহমান সামি, নূর আলম, হোসাইন ইকবাল, হিমেল হাসান, মো. এমদাদুল হক, মো. মতিউর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক শাওন, শিব্বির আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, শহিদুল ইসলাম সবুজ, ফাহিম আহমদ, সাইফুর রহমান, রাজু আহমেদ, রহমতুল হোসেন লস্কর, নোমান ফয়সল, আশিক উদ্দিন, সাগর হাসান শুভ, মো. মুজিবুর রহমান, ফয়জুল আহমদ, শ্যামল নন্দী, মো. আফজাল হোসেন, মো. সালেক আলী খান, ফয়জুল কাদির, সৈয়দ আলমগীর, মেহেদী হাসান লিটু, মররুর আহমদ রাজু, মো. মারুফ হাসান, মো. সোহাগ, মোবারক হোসেন পাপ্পু, তুহিন সরকার, শিমুল চন্দ্র (জয়), আমজাদ আলী ও সুরত আলী মিয়া প্রমুখ।
ওয়াইএফ/০২