কমতে শুরু করেছে সুরমার পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক


জুন ২৯, ২০২০
১১:৩৯ অপরাহ্ন


আপডেট : জুন ৩০, ২০২০
০১:৪৯ পূর্বাহ্ন



কমতে শুরু করেছে সুরমার পানি

ভারতের আসাম প্রদেশ থেকে বন্যার পানি বাংলাদেশের নদ-নদীতে ঢুকা অব্যাহত থাকায় দেশের অনেক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দেশের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তবে ভারতের মেঘালয় প্রদেশের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কিছুটা কমতে শুরু করেছে সুরমা নদীর পানি। ফলে সিলেট নগরের কাজিরবাজার, তালতলা, কালিঘাট, ছড়ারপাড়, শাহজালাল উপশহর, তেররতন, গোলাপবাগ, সোবহানীঘাটসহ অনেক এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। সুনামগঞ্জ শহরেরও তেঘরিয়া, উত্তর আরপিন নগর, ষোলঘর, কাজিরপয়েন্ট, নবীনগর, উকিলপাড়ার সড়ক থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।

তবে সুনামগঞ্জ শহরে পানি কিছুটা কমলেও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানিবন্দি সাধারণ মানুষদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। বন্যা কবলিত উপজেলা গুলোর সব সড়কই ৫ থেকে ১০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়াবাজার ও জামালগঞ্জ উপজেলার মানুষজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সুরমা নদীর পানি সিলেটে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে,  কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান জানান, রবিবার সকালে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কমলে পাহাড়ি ঢলও কমে যাবে। এতে দ্রুত পানি নামতে শুরু করবে।

জেলা প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, এই জেলার দুর্গতদের জন্য ১২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১২’শ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৪১০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সুনমাগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, এখানে হাওরের পানি বাড়ছে। গত কয়েকদিনে উজানে ৫৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর পুরো পানিটাই হাওরে এসে জমা হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে আরও ত্রাণ ও ওষুধ সামগ্রী আসছে। আমরা এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার চেষ্টা করছি।

সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয়, আসামের করিমগঞ্জ ও মণিপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। অপেক্ষাকৃত উচু ওই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের পথ হলো সিলেট। সুরমা, কুশিয়ারাসহ অন্তত ১০টি শাখা নদী হয়ে এই পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসব নদীতে এখনও পাহাড়ি ঢলের পানি বিপদসীমার ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জে্এসএস/বিএ-২১