ওসমানীনগর প্রতিনিধি
আগস্ট ২২, ২০২০
০১:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট : আগস্ট ২২, ২০২০
০১:৪৯ অপরাহ্ন
সিলেটের ওসমানীনগরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী এ বিষয়ে কোনো বিচার না পেয়ে মামলা দায়ের করেছেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার কাঠালখাইড় গ্রামের মৃত আতিকুর রহমানের ছেলে রুয়েল মাহমুদ কাতারে যাওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী গ্রামের (ওসমানীনগরে খাদিপুর) মৃত মদরিছ আলীর ছেলে আদম ব্যবসায়ী খছরু মিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনার একপর্যায়ে খছরু মিয়া রুয়েল মাহমুদকে কাতারে পাঠাতে ৩ লাখ ৬০ হাজার সাব্যস্তক্রমে গতবছরের ১৪ আগস্ট একটি লিখিত চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হন।
চুক্তির শর্তমতে খছরু মিয়া ও তার ভাই কওছর মিয়া পর্যায়ক্রমে ৪টি কিস্তিতে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা রুয়েল মাহমুদের কাছ থেকে গ্রহণ করেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও রুয়েল মাহমুদকে কাতারে পাঠাতে খছরু মিয়া টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে রুয়েল মাহমুদ অতিষ্ট হয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য খছরু মিয়াকে বললে তিনি তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও আদম ব্যবসায়ী খছরু মিয়া ও তার ভাই কওছর মিয়া সালিশে হাজির না হয়ে উল্টো রুয়েল মাহমুদকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে ও প্রাণনাশের হুমকিতে ভীত হয়ে এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তা তদন্তের নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত খছরু মিয়া বলেন, 'প্রবাসে যাওয়ার জন্য রুয়েল মাহমুদ টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকার কিছু অংশ আমি ইতোমধ্যে তাকে দিয়েছি। বাকি টাকা দেওয়ার জন্য একটু সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সে সময় দিতে চাননি।'
আর বাদী রুয়েল মাহমুদ বলেন, 'কাতারে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে অনেকবার খছরু মিয়া ও তার ভাই কওছর মিয়াকে চার কিস্তিতে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা ও আমায় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।'
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, 'আদালতের নির্দেশ এখনও থানায় এসে পৌঁছায়নি। কাগজ হাতে পেলে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন পেশ করা হবে।'
ইউডি/আরআর-০৭