উজ্জ্বল ধর, ওসমানীনগর
আগস্ট ২৪, ২০২০
০১:১৩ অপরাহ্ন
আপডেট : আগস্ট ২৪, ২০২০
০৭:০৮ অপরাহ্ন
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার, ব্রাহ্মণশাসন, কাশিকাপন, সাদিপুর অংশ যেন 'ছেঁড়া কাঁথা'। একদিকে নতুন নতুন গর্ত হচ্ছে, আরেকদিকে চলছে মেরামত। ইট, পাথর, মাটি মিশ্রিত বালু আর পুরোনো পিচের টুকরো দিয়ে এই মেরামত যেন ছেঁড়া কাঁথায় পট্টি লাগানোর মতোই।
লকডাউন পরবর্তী সময়ে সিলেটের ব্যস্ততম এই সড়কে বেড়েছে যান চলাচল। মহাসড়কের খানাখন্দ ভরাটের নামে বিভিন্ন জায়গায় চলছে টাকার অপচয়। ইট, মাটি মিশ্রিত সুড়কি আর পুরোনো পিচের টুকরো ফেলে বালু দিয়ে নামকাওয়াস্তে মেরামত করা হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই সড়ক ফিরে পুরোনো রূপে। গতকাল রবিবারও উপজেলার গোয়ালাবাজার এলাকায় মহাসড়কের স্থানে স্থানে মেরামত করতে দেখা গেছে। তবে খোদ মেরামতকারীদেরই আশঙ্কা- বৃষ্টি হলে সব ধুয়ে যাবে!
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নতুন করে নির্মাণের পর এই সড়কে আর বড় ধরণের মেরামত হয়নি। গত ১৫ বছরে ওসমানীনগর অংশে সংস্কারের বড় কোনো উদ্যোগ না নিয়ে মেরামতের নামে শুধু ছোট-বড় গর্তের উপর নিম্নমানের ইট, পাথর, বালু ফেলা হয়েছে। এবারের বর্ষায় মহাসড়কটির অবস্থা খুবই করুণ। চলতি মাসেও একাধিকবার সওজ'র গাড়িতে করে মহাসড়কে গর্ত ভরাট ও উঠে যাওয়া কার্পেটিংয়ে তালি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মহাসড়ক নামের ছেঁড়া কাঁথায় এই লোক দেখানো পট্টি জনভোগান্তি বাড়িয়ে তুলেছে। এর সঙ্গে বেড়েছে দুর্ঘটনার মাত্রা। বৃষ্টি হলেই গর্তে জমা পানি ছিটকে বিব্রত হতে হয় পথচারীদের। অন্যদিকে রোদের দিনে ধুলোময় হয়ে ওঠে চারপাশ।
গত একমাসে ওসমানীনগরে ৮টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৩ জন। আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি। বিভিন্ন প্রকার নির্মাণসামগ্রী রেখে দখলে রাখা হয়েছে মহাসড়কের দুইপাশ। এদিকে রাস্তার মধ্যভাগে ছোট-বড় গর্ত থাকায় যানগুলো একটু পাশ ঘেঁষে গেলেই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মহাসড়কের তেরমাইল পল্লীবিদ্যুৎ নামক স্থানে প্রতিদিন ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সওজ থেকে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে কয়েক দফা খোয়া-বালু দিয়ে জোড়াতালির সংস্কার করা হয়। কিন্তু দূর হয়নি যান চলাচলের প্রতিবন্ধকতা।
এদিকে ঢাকা-সিলেট ২১৪ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হওয়ার পর চোখে পড়ার মতো কোনো সংস্কারই হচ্ছে না মহাসড়কে। স্থানে স্থানে কার্পেটিং উঠে উঁচু-নিচু সড়কে আতঙ্ক নিয়ে চলছে যানবাহন।
বাসচালক মন্নান মিয়া বলেন, 'মহাসড়কে গাড়ি ডানে-বাঁয়ে টানে। স্টিয়ারিং ধরে রাখা কঠিন। আর সংস্কারের নামে গর্তে ইট, পাথর ,মাটি ফেলে যাওয়ার পর গাড়ির চাপে সেগুলো সরে যায়। একটু এদিক-ওদিক হলেই ঘটে দুর্ঘটনা।'
গোয়ালাবাজারের দোকানি মুমিন মিয়া বলেন, 'বছরের পর বছর মহাসড়কের একই অবস্থা। মাঝে মাঝে লোক দেখানো মেরামত হয়। সকালে মেরামত হয়, রাতের বৃষ্টিতে তা ধুয়ে যায়। প্রতিদিন কত গাড়ি যে এ সড়কে ফেঁসে যায় তার কোনো হিসাব নেই।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সওজ'র একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বেশ কয়েকবছর ধরে ঢাকা-সিলেট ২১৪ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। ইতোমধ্যে সে সিদ্ধান্ত গৃহিতও হয়েছে। তাই বর্তমান সড়কে বড় ধরণের সংস্কার হচ্ছে না। মহাসড়কের কিছু কিছু অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেখানে সীমিত আকারে মেরামত চলছে।
ইউডি/আরআর-০৬