বোরো চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আড়াই লাখ চাষি, ভেসে উঠছে বীজতলা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি


নভেম্বর ৩০, ২০২০
১২:২৮ পূর্বাহ্ন


আপডেট : নভেম্বর ৩০, ২০২০
১২:২৮ পূর্বাহ্ন



বোরো চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আড়াই লাখ চাষি, ভেসে উঠছে বীজতলা

হাওরের বীজতলা ধীরে ধীরে ভাসতে শুরু করেছে। তাই বীজতলা তৈরি করে বোরো চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুনামগঞ্জ জেলার আড়াই লাখ চাষি। সম্প্রতি বিভিন্ন হাওরে এ চিত্র দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ হাওর থেকে এখনও পানি নামছে না। ফলে এবার বোরো আবাদ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় ৯৫টি হাওরে এবার ২ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় বোরো চাষে প্রায় আড়াই লাখ চাষি জড়িত রয়েছেন। অন্যান্য বছর চাষিরা নভেম্বরের শুরু থেকেই বীজতলা তৈরি করতে শুরু করেন। কিন্তু এবারের ৪ বারের বন্যা, অপরিকল্পিত বাঁধ, নদ-নদী ভরাট হওয়ার কারণে বিভিন্ন হাওর থেকে পানি নামছে না। এতে নতুন এক সংকট দেখা দিয়েছে। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কৃষকরা যথাসময়ে চাষ-বাস নিয়ে আশঙ্কায় আছেন। তাই এ বছর বীজতলা তৈরির সময় ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিআর ২৮, ২৯, ৫৫ এবং হাইব্রিড চাষে উৎসাহ দিচ্ছে। এছাড়া বিলম্বে পানি নামার কারণে সম্প্রতি জেলা কমিটির সভায় বিভিন্ন বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মৌসুমে যাতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো চাষ হয় সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ১০ হাজার ৫৯০ হেক্টর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ হেক্টর বীজতলা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বীজতলা ভেসে উঠায় তা প্রস্তুত করছেন কৃষকরা। 

দেখার হাওরের গোবিন্দপুর-তাজপুরের কৃষক ছায়াতুন্নেসা বলেন, ‘আমাদের ২৪ কিয়ার জমি রয়েছে হাওরে। অন্যান্য বছর এমন সময় এসে বীজতলা তৈরি শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর এখনও বীজতলা ভেসে না উঠায় প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সম্পূর্ণ জমি এবার চাষ করতে পারব কি না তা নিয়ে সন্দিহান আছি।’

ডাকুয়ার হাওরের কৃষক শুকুর আলী বলেন, ‘আস্তে আস্তে আমাদের হাওরের বীজতলা ভেসে উঠছে। তবে এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে পানি নামছে বিলম্বে। আশা করি আমরা জমিগুলোতে চারারোপণ করতে পারব।’

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাশিদুল হাসান বলেন, ‘অপরিকল্পিত বাঁধ, চারবারের বন্যাসহ নানা কারণে এবার পানি কিছুটা বিলম্বে নামছে। তবে এ কারণে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে না। যথাসময়েই কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারবেন।’

এসএস/বিএ-০৬