ওসমানীর শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, কাজে যোগ দেবেন কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক


জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
০৩:১৫ অপরাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
০৩:১৫ অপরাহ্ন



ওসমানীর শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার, কাজে যোগ দেবেন কাল


দীর্ঘ প্রায় ৩৮ ঘন্টা কর্মবিরতিতে থাকার পর আন্দোলন থেকে সরে এলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। 

আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে দাবি পুরণের আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা চলমান কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

জানা গেছে, আজ দুপুরে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ হাসপাতালের উর্ধতন কর্মকর্তারা। ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে আনসারদের হাসপাতালে এলাকায় ডিউটি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন মেডিকেল পরিচালক৷ এছাড়া মোট আটটি বিষয়ে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা নিজেদের দাবিদাওয়া জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

বৈঠক শেষে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আমরা কর্মবিরতি শুরু করেছিলাম। কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি পুরণে আশ্বাস দেওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। তবে মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা আগামীকাল সোমবার সকাল ৮ টা থেকে কাজে যোগ দেবো।

ওসমানী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘শিক্ষানবিশ চিকিৎকরা আমাদের দাবি মেনে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরাও তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো। ইতোমধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিক্ষানবিশ চিকিৎসদের দাবিগুলো হলো

হাসপাতালে প্রতিটি এডমিশন ইউনিটে ২ জন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড+একজন মহিলা ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত থাকতে হবে। এছাড়া ইভিনিংয়ে ১ ঘন্টা পর পর টহল টিম থাকবে, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবে। আর রাতে অন কল ইন ইমার্জেন্সি হিসেবে ফোর্স প্রস্তুত থাকতে হবে।

রোগীর সাথে সর্বোচ্চ ২ জন এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা সময়ে ভিসিটিং টাইম চালু করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন অবস্থায় একজন রোগীর সাথে ২ জন এর বেশি এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে না।

পরিচালক স্যারের সাথে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে।

হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে সর্বদা মিডলেভেল ডাক্তার থাকতে হবে। বিশেষ করে এডমিশন এর দিন।

অধিকাংশ এসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় শিখানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকেন, এ বিষয়ে তাদেরকে আরো দ্বায়িত্বশীল হতে হবে।

হাসপাতালে যে পুলিশ বিভাগ নিয়োজিত আছে তাদেরকে হাসপাতালের নিরাপত্তার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আরো দ্বায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে।

নিয়মিত ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশন করতে হবে।

হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে নির্ধারিত ভিসিটিং আওয়ার এর ব্যবস্থা করতে হবে।

এর আগে শুক্রবার রাতে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় টানা রোববারও কর্মবিরতি অব্যাহত রাখেন তারা। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালের রোগীরা।



এএফ/০২