নারী ক্ষমতায়ন ঘর ও মানসিকতায় পৌঁছাতে হবে: জাইমা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক


জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
১২:২৭ অপরাহ্ন


আপডেট : জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
১২:২৭ অপরাহ্ন



নারী ক্ষমতায়ন ঘর ও মানসিকতায় পৌঁছাতে হবে: জাইমা রহমান

জাইমা রহমান।

নারীর ক্ষমতায়ন কেবল ব্যক্তিগত অগ্রযাত্রা নয়, জাতির ভবিষ্যৎ বদলেরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। নারীদের স্বাগত জানানো হলে তারা শুধু নিজেদের জীবন নয়, পরিবার ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎও বদলে দেয় বলে মনে করেন তিনি।

রবিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক পলিসি ডায়লগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জাইমা রহমান বলেন, 'বাংলাদেশ যদি টেকসই উন্নয়ন চায়, তাহলে নারী ক্ষমতায়নের বিষয়টি শুধু শিক্ষা, অফিস বা নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এটি ঘর, প্রতিষ্ঠান ও মানসিকতায় পৌঁছাতে হবে। এই দায়িত্ব রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের সবার।'

জনপরিসরে দেওয়া প্রথম বক্তৃতায় তিনি বলেন, 'আমি আজ এখানে দাঁড়িয়েছি ভিন্ন এক অনুভূতি ও আবেগ নিয়ে। বাংলাদেশের এই পলিসি লেভেলে আমার প্রথম বক্তব্য এটা। আমি এমন কেউ না—যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে বা সব সমস্যার সমাধান জানা আছে। তবুও আমি বিশ্বাস করি, নিজের ছোট্ট জায়গা থেকে ও সমাজের জন্য; দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত। আজ আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসাথে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে।'

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেশ ছাড়ার পর গত ২৫ ডিসেম্বর পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরেন জাইমা রহমান। বক্তৃতায় তিনি নারী অগ্রযাত্রায় তার দাদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন।

জাইমা বলেন, 'নারীর মর্যাদা ব্যক্তিগত ও জনপরিসর উভয় জায়গায় স্বীকৃত হওয়া উচিত। এই বিশ্বাস জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেও প্রতিফলিত হয়েছিল। নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন অসম্পূর্ণ—এটি তিনি গভীরভাবে বুঝতেন। তার নেতৃত্বে পোশাক খাতের বিকাশের ফলে লাখো নারী প্রথমবারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে যুক্ত হন, অর্জন করেন আয়ের স্বাধীনতা।'

তিনি বলেন, 'নারী ও কন্যাশিশুর জীবনমান উন্নয়নে সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা থেকেই মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা কেবল নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ব্যক্তিগত মূল্যবোধের প্রকাশ।

খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জাইমা রহমান জানান, তার দাদি শিক্ষার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাস অর্জনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। বিনামূল্যের মাধ্যমিক শিক্ষা, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা ও নগদ অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে লাখো মেয়েকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। এসব উদ্যোগ দেশে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও অনুকরণীয় হয়ে ওঠে।

তিনি লন্ডনে অবস্থানকালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সময়কার একটি স্মৃতিচারণ করে জানান, নাইজেরিয়ার এক নার্স বাংলাদেশের এসব শিক্ষানীতির কথা জানতেন এবং সেগুলো তাদের দেশেও অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান। এতে গ্রামাঞ্চলের লাখো মেয়ে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জাইমা রহমান, অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই বিশেষ করে ২৫ বছরের নিচের নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এজন্য ডিজিটাল লিটারেসি, আত্মরক্ষামূলক দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যাগুলো দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, কমিউনিটি পর্যায়ে রিপোর্টিং ব্যবস্থা, ভালো স্ট্রিট লাইটিং এবং কার্যকর আইনি সুরক্ষার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

উপস্থাপক কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান রুপালী হক চৌধুরী, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা।

আরসি-০২